হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ

1034

লাইভ বার্তা ডেস্কঃ
fish 001মাছে ভাতে বাঙ্গালীর এই দেশে, মাছ দেশীয় সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের অংশ। বাংলাদেশের জলাশয়ে পানি আছে আর মাছ থাকবে না, এটা যেমন কেই ভাবতে পারে না। তবে বর্তমানে উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমাদেরকে এক সময় বলা হত, ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। কিন্তু এই দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির বাজারে মাছের মূল্যেরও উর্ধ্বগতি আজ আমাদের এই বৈশিষ্ট্যকে ইতিহাসে পরিণত করেছে। এক সময় মাছ ছিলো বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্য। কিন্তু আজ নতুন প্রজন্মের অনেকেই দেশী মাছই চেনে না। আমরা যারা এই সময় বাজার করি তারা মাছ বিক্রেতা যে নাম বলে সে নামেই আমরা মাছ কিনে থাকি।

বাংলাদেশে বেঁচে থাকা মৎস প্রজাতি :
পৃথিবীতে প্রায় ৪৫০ গোত্রে ২৯,০০০ প্রজাতির মতো মাছ রয়েছে, যাদের প্রায় ৪০% স্বাদুপানির বাসিন্দা।
বাংলাদেশে ১৮ বর্গে ১২৩ গোত্রে ৪০২ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ আছে। এই ৪০২ প্রজাতির মধ্যে ৩ বর্গে ১৫ গোত্রে ৫৬ কোমলাস্থিময় মাছ  এবং ১৫ বর্গে ১০৮ গোত্রে ৩৮৬ প্রজাতির অস্থিময় মাছ রয়েছে। প্রায় ১৪ বর্গে ৬১ গোত্রে ২৫১ প্রজাতির স্বাদুপানি ও লোনাপানির (আন্ত:দেশীয়) মাছ আছে।

fish 002তবে বাংলাদেশে জলাশয়ে এখন ২৬৬ প্রজাতির মাছ বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশের ইনল্যান্ড বা আভ্যন্তরীন জলাশয়ে যে ২৬৬ প্রজাতির মাছ দেখা যায় তার মধ্যে- ১) রুই ২) কাতল ৩) চিতল ৪) কৈ ৫) টাকি ৬) শোল ৭) কালিবাউস ৮) পুটি ৯) রাজপুটি ১০) সরপুঁটি ১১) রিটা ১২) বাটা ১৩) চাপিলা ১৪) লইট্টা ১৫) লাক্ষা ১৬) সুরমা ১৭) ইলিশ ১৮) টেংরা ১৯) গজার ২০) শিং ২১) মাগুর ২২) আইড় বা আড়, ২৩) বোয়াল ২৪) পাবদা ২৫) কাকিলা ২৬) মলা ২৭) ঢেলা ২৯) কোরাল ৩০) রূপচাঁদা ৩১) টেকচাদা ৩২) মৃগেল ৩৩) চিরিং ৩৪) চিংড়ি ৩৫) শাপলা ৩৬) ছুরি ৩৭) পোয়া ৩৮) বাইল্লা মাছ ৩৯) বাইম ৪০) পাঙ্গাশ ৪১) ফলি ৪২) মহা শোল, ৪৩) কাজলি ৪৪) বাতাসি ৪৫) মেনি ৪৬) গুলশা ৪৭)গুচি ৪৮) কাইক্কা ৪৯)  ৫০) তিতপুটি ৫১)ভেদা ৫২)রয়না ৫৩) বাইম । ৫৪)পাকাল,৫৫)গুইতা, ৫৬)বাছা, ৫৭)রাইখোড় ৫৮)ভেবদা ৫৯)কাটাপাতাশী ৬০)সাগরপোনা  ৬০)নলা বা নওয়ালী ৬২) পটকা মাছ ৬৩) করাত মাছ ৬৪)সাগরপোনা ৬৫)টাক-চামা ৬৬)বাতাসি ৬৭)বৈচা ৬৮)টাটকিনি ৬৯)তপসী ৭০)কাজলকি ৭১)চেওয়া ৭২)ফেওয়া ৭৩)ফাইস্যা ৭৪)শিলং ৭৫) ৭৬) চেলা ৭৭)এলং ৭৮)আনজু ৭৯) আরওয়ারি ৮০) বইটকা ৮১) বামুশ ৮২) বানেহারা ৮৩) বারালি ৮৪) বারিল ৮৫) এক থোতা ৮৬) কুইচা ৮৭) ককসা ৮৮) কুচিয়া ৮৯) কুটি কানটি ৯০) ভেটকি ৯১) ভোল ৯২) বিলচুরি ৯৩) বোরগুনি ৯৪) বৌমাছ ৯৫) চেনুয়া ৯৬)চুনা ৯৭) গেছুয়া ৯৮) গাগলা ৯৯) ঘোড়া মাছ ১০০) গুতুম ১০১) জয়া ১০২) খাতাল পাতা ১০৩) খেটি ১০৪) খোলসে ১০৫) খাকসা ১০৬) কোয়কা ১০৭) কয়টোর ১০৮)  ১০৯) কোসুয়াটি ১১০) কুচিয়া ১১১)খুলি ১১২) কুমিরের খিল ১১৩)কুরসা ১১৪)কুটি কানটি ১১৫)লাল খোলসে ১১৬)মুরিবাচা ১১৭) নানডিল ১১৮) নেফটেনি ১১৯) পঙ্গা ১২০)পাঠার চাটা ১২১) ফশা ১২২) রাঙ্গা চান্দা ১২৩) রাটা বউরা ১২৪) শভন খোরকা ১২৫) শনকাচি ১২৬) শুনকুশ ১২৭) টাটারি ১২৮) উটি ১২৯)করাতি হাঙর১৩০) খেটি ১৩১) গুতুম ১৩২) জয়া ১৩৩) বালি গুড়গুড়ি, আরও নাম না জানা ১৩৩ টি প্রজাতির মাছ।

fish003আন্ত:দেশীয় মাছের মধ্যে সর্বাধিক রয়েছে  ২৫ গণভুক্ত ৬১ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে কার্প রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ ইত্যাদি; বার্ব পুঁটি, মহাশোল ইত্যাদি এবং মিনো দারকিনা, চেলা, মলা ইত্যাদি। বাংলাদেশের স্বাদুপানিতে ৫৪ প্রজাতির ক্যাটফিশ টেংরা, আইড়, শিঙি, মাগুর ইত্যাদি পাওয়া যায়। লোচ- রানি, গুতুম, পোয়া ইত্যাদি সম্পর্কে গবেষণা হয়েছে কম (প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২)।

এক সময়ে জলাভূমিতে বিপুল সংখ্যক শোল, টাকি, গজার ইত্যাদি ছিল, বর্তমানে কম দেখা যায়। এই গোত্রের ৫ প্রজাতির মধ্যে ৩ প্রজাতিই বিপন্ন: পিপলা বা তিলাশোল অতি বিপন্ন, গজার   এবং তেলোটাকি বিপন্নপ্রায়। সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এখনো পিপলা মাছ আছে, কখনও কখনও সর্ষেফুল ক্ষেতে যায় এবং খরায় কাদার নিচে ঢোকে, ডিম ও পোনা পিতৃমাতৃ স্নেহে লালন করে।

বাংলাদেশে ৭৬ প্রজাতির মাছকে প্রায়শ স্বাদুপানি ও সামুদ্রিক মাছের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অতি-গুরুত্বপূর্ণ মাছ হল ইলিশ।  বাংলাদেশে সবচেয়ে পছন্দের মাছ হলো এ্যানাবেন্টিডি গোত্র ও পারসিফরম্স বর্গের কই । অধিকাংশ সামুদ্রিক হলেও বেশিরভাগ মাছই মোহনা ও নদীতে প্রবেশ করে, যেমন টাক-চামা, পোয়া (ইংরেজিতে যাকে জেউ ফিস বলে) তপসী, বাটা, রূপচান্দা ইত্যাদি।

অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের ২৫১ প্রজাতির মধ্যে ৫৪ প্রজাতির মাছ বিভিন্ন ধরনের বিপদের মুখোমুখি; তন্মধ্যে ১২ প্রজাতির মাছ অতি বিপন্ন, ২৪ প্রজাতি বিপন্ন ও ১৪ প্রজাতি বিপন্নপ্রায়।

যে মাছ গুলো আমাদের অজান্তেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বা অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। চরম বিপন্ন প্রজাতির সেই মাছ গুলো হলো- ভাঙন, নান্দিনা, ঘোড়া মুখো, সরপুঁটি, মহাশোল, রিটা, ঘাউড়া, বাচা, দেশী পাঙ্গাশ, বাখাইর, সিসর, চেনুয়া ও পিপলা শোল।

বিপন্ন প্রজাতির মাছ গুলো হলো- চিতল, জয়া, খোকশা, কাশ খইরা, কালি বাউশ, ঘন্যা, ঢেলা, ভোল, দারকিনি, রানি, পুতুল, বউমাছ, গুইজ্যা, আইড়, বাটা সিও, টেংরা, কানি পাবদা, মুধু পাবদা, গজার, নাপিত কৈ, বিশতারা, বাইম, শাল বাইন, অ্যালং ইত্যাদি।

fish 004মসা মারতে মাছ, বিদেশ থেকে মাছ আমদানি:
বিশ শতকের গোড়ার দিকে এদেশে প্রায় ১৫০ প্রজাতির বিদেশী মাছ আনা হয়। এই ১৫০ প্রজাতির আমদানি করা মাছের মধ্যে মাত্র ১৩ প্রজাতি স্বাদুপানি ও স্বল্প-লোনাপানিতে চাষযোগ্য মাছ। বিশ শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য লার্ভাভুক মাছ আমদানি করা হয়।

(লাইভবার্তা২৪ডটকম /জিএম/এসএস/জানুয়ারী ০১, ফেব্রুয়ারী, ২০১৭)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY