সাজছে স্মৃতিসৌধ

66

l2নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিজয়ের ৪৫ বছর পূর্তিতে প্রতিবারের মতো এবারও সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামবে লাখো জনতার। শুধু সর্বস্তরের জনতাই নয়, দিবসটির প্রথম প্রহরে সৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতাসহ দেশ-বিদেশের ভিআইপিরা। আর তাই সাভার গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে সৌধ প্রাঙ্গণে চলছে সকাল থেকে বিকেল অবধি পরিষ্কার-পরিছন্ন, রং-তুলির আঁচড় ও সংস্কারসহ ফুল দিয়ে সাজানোর কাজ।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভেতরে ঘুরে দেখা যায়, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভার গণপূর্ত বিভাগ জাতীয় স্মৃতিসৌধকে পরিষ্কার-পরিছন্ন করে এক নতুন রূপ দিতে এরইমধ্যে সৌধে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়া গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে সৌধের প্রতিটি স্থাপনায় দেওয়া হচ্ছে নতুন করে রং-তুলির আঁচড়। শুধু যে রং তুলির আঁচড়ই নয়, সবুজ ছায়া ঘেরা সৌধ চত্বরের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে বসানো হচ্ছে নানা রকমের ফুল গাছ। এছাড়া নারী কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে চলছে পুরো সৌধপ্রাঙ্গণ ধোয়া-মোছার কাজ। সবাই ব্যস্ত সৌধ চত্বরকে এক নবরূপ দিতে।সৌধ চত্ত্বরের সিঁড়িতে রংয়ের কাজ করতে আসা ইমন নামে এক কারিগর জানান, এরই মধ্যে রং-তুলির কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি ২০ ভাগ কাজ আগামী ২ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে। তিনিসহ আরও ৪ জন রং-তুলির কাজ করছেন বলেও যোগ করেন এই কারিগর।

সৌধের সবুজ ছায়া ঘেরা বিভিন্ন স্থানে ফুলের গাছ লাগানো আব্দুল মতিন নামে এক ব্যক্তি জানান, মহান বিজয় দিবস আসলেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষের ঢল নামে। আগত মানুষদের কাছে স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই নানা স্থানে ফুল গাছ লাগানো হচ্ছে।

এদিকে, বিশেষ বিশেষ দিবস এলেই জাতীয় স্মৃতিসৌধের কদর বেড়ে যায় বলে অভিযোগ সাধারণ দর্শনার্থীদের। তাদের অভিযোগ, হাতেগোনা কয়েকটা বিশেষ দিবস ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় সৌধপ্রাঙ্গণ নোংরা অবস্থায় থাকে। ময়লা-আবর্জনা দিয়ে জর্জরিত হয়ে থাকে সৌধপ্রাঙ্গনের সর্বত্র।

সৌধে ঘুরতে আসা মুন্নি নামে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি মাঝেমধ্যেই সৌধপ্রাঙ্গণে ঘুরতে আসেন। তবে সব সময় তিনি সৌধপ্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিছন্ন অবস্থায় দেখতে পান না।

এছাড়া এই শিক্ষার্থী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সৌধ প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিছন্ন করতে দেখে অনেকটা ক্ষোভ নিয়েই আরো বলেন, শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী আসলেই পরিষ্কার ও সংস্কার করা হয়। আর সারাবছর ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে থাকে সৌধ চত্বর।

সাধারণ দর্শনার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় সৌধের দায়িত্বে থাকা সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভিআইপিসহ লাখো জনতার ঢল নামবে। তাই গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে সৌধ প্রাঙ্গণকে নতুন রূপ দিতে চলছে নানা আয়োজন।

তিনি সাধারণ দর্শনার্থীদের অভিযোগের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ১০৮ হেক্টর জমির উপর নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এত বিশাল জায়গা পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় বিশেষ বিশেষ দিবস ছাড়া যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিছন্ন করে রাখা সম্ভব হয় না।

 

জ/ ০০২

 

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY