১১৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

204

a

লাইভ বার্তাঃ

চাঁদপুর ও আশপাশের এলাকায় শিশুরা ব্যাপক হারে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১১ দিনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৫০ শিশু আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মতলব হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

হাসপাতালটির কার্যালয় সূত্র জানায়, শীতকালীন এ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত দিনে গড়ে ১০৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয় ৫৫টি শিশু। আজ সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৭৫ শিশু। ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে বেশির ভাগ পাঁচ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশু ৭৯৫টি। দুই থেকে চার বছর বয়সী শিশু ৬৯টি। বাকি শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১৫ বছর বা এর চেয়ে বেশি।

চিকিৎসকেরা জানান, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮১, ফরিদগঞ্জের ৫৮, হাইমচরের ১৮, হাজীগঞ্জের ৫৪, কচুয়ার ৪৭, মতলব উত্তরের ৪৩, মতলব দক্ষিণের ৪৬, শাহরাস্তির ৩৩, কুমিল্লা সদরের ৬৫, বরুড়ার ৫৬, চান্দিনার ৭৬, দাউদকান্দির ২৪, তিতাসের ১৭, দেবীদ্বারের ৩৬, লাকসামের ৪৮, মুরাদনগরের ২৯, মনোহরগঞ্জের ১৯, লক্ষ্মীপুর সদরের ১৫২, রায়পুরের ৬৪, রামগঞ্জের ৩১ ও শরীয়তপুরের সখীপুর উপজেলার ১৫টি। বাকি শিশুরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলার। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। বহির্বিভাগেও এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ওয়্যারলেস বাজার এলাকার মারিয়া আক্তারের (৪) মা নাজমা বেগম বলেন, ‘ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমি অওনে আজ (গতকাল) সকালে মাইয়াডারে এনো ভর্তি করাইছি। হেরা স্যালাইন পুশ করছে। খাওনের স্যালাইনও দিছে। এহন কিছুডা ভালা।’

হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর দাস বলেন, শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এ জন্য শীতকালে তারা রোটা ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়। ময়লাযুক্ত খাবার খাওয়া ও দূষিত পানি পান করায় এ রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত আক্রান্ত শিশুদের স্যালাইন ও মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। সাত মাস থেকে দুই বছর বয়সী শিশুদের খাওয়ার স্যালাইন, বেবি-জিংক, মায়ের বুকের দুধ ও বাড়ন্ত খাবার (সুজি, খিচুড়ি, ভাতের মাড় ও ডাবের পানি ইত্যাদি) দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে এবং তারা যাতে ময়লা খাবার ও দূষিত পানি পান না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ঝ/০৬

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY