রিকশাচালকদের জন্য হাসপাতাল হচ্ছে

272

a

লাইভ বার্তাঃ

গুলশান এলাকার রিকশাচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আগামী মাসে একটি হাসপাতাল চালু করা হবে। সেখানে তাদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। পরে ঢাকার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক রিকশাচালককে এই সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

গুলশান সোসাইটি ও বেসরকারি সংস্থা হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল (এইচএইএফএ) যৌথ উদ্যোগে ‘আশার আলো’ নামের প্রতিষ্ঠান এই জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমটি পরিচালনা করছে। গুলশান সোসাইটির নিবন্ধিত ১ হাজার ২০০ জন রিকশাচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন। গত ৯ ও ১০ নভেম্বর এসব রিকশাচালকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডেটাবেইস তৈরি করা হয়েছে।

রাজধানীর প্রান্তিক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন এইচএইএফএর প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আবিদ। পেশায় চিকিৎসক রুহুল  বলেন, রিকশাচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভ্যাস নেই। ফলে অসুস্থ হওয়ার আগে তারা বুঝতে পারেন না শারীরিক কোনো সমস্যা আছে কি না। অসুস্থ হওয়ার আগেই রিকশাচালকদের চিকিৎসার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ।

গত মাসে ৯ জন চিকিৎসকসহ ১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী দুই দিনব্যাপী পরিচালিত স্বাস্থ্য কার্যক্রমে গুলশানের নিবন্ধিত রিকশাচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রোগ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়। প্রত্যেকের রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, যক্ষ্মা, হাঁপানি আছে কি না, তা দেখা হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিকশাচালকদের জন্য স্বাস্থ্য ডেটাবেইস তৈরি করা হয়েছে। ‘নীরোগ’ নামের একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে বানানো এই ডেটাবেইস ব্যবহার করে রিকশাচালকদের চিকিৎসার পুরোনো অবস্থা জানা যাবে এবং তারা মুঠোফোনেও স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। এর আওতায় প্রত্যেক রিকশাচালককে একটি করে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়েছে। রিকশাচালকদের পরিবারের সদস্যদেরও বিশেষ বারকোড-সংবলিত এমন কার্ড দেওয়া হবে। মাসুদ রানা নামের এক রিকশাচালকের নামে একটি স্বাস্থ্য কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। মাসুদ রানা গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই বছর ধইরা গুলশানে রিকশা চালাই। কয় দিন ধরেই তাঁর শরীরটা দুর্বল লাগত। রক্ত নিছে, ওজন মাপছে। তারপর ভিটামিনের ট্যাবলেট দিছে।’

রিকশাচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ডায়াবেটিস, জ্বর, কাশি, রক্তচাপ, রক্তশূন্যতাসহ বিভিন্ন রোগের ১০-১২ ধরনের ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। ডেটাবেইস ধরে রিকশাচালকদের কার কী সমস্যা আছে, তা দেখা হচ্ছে, সে অনুযায়ী প্রতি মাসে রিকশাচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

শুধু চিকিৎসা দিয়ে ও ডেটাবেইস তৈরি করে কাজ শেষ না করে পুরো প্রক্রিয়াকে একটি স্থায়ী কাঠামো দেওয়ার চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা। আগামী জানুয়ারিতে এসব রিকশাচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ছোট পরিসরে একটি হাসপাতাল চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হাসপাতালের জন্য ইতিমধ্যে বাড্ডা এলাকায় একটি বাসা ঠিক করা হয়েছে। যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স থাকবেন।

এ বিষয়ে গুলশান সোসাইটির মহাসচিব ওমর সাদাত  বলেন, শুধু রিকশাচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি হাসপাতাল করা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা এখানে সেবা দেওয়া হবে। এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফির মতো পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। রিকশামালিকদের কাছ থকে মাসিক ভিত্তিতে নেওয়া চাঁদা এবং সোসাইটির দেওয়া টাকায় হাসপাতালের দৈনন্দিন খরচ চালানো হবে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে রিকশাচালকদের সন্তান টিকা পেয়েছে কি না, পুষ্টি পাচ্ছে কি না, তা দেখভাল করা হবে। নারীর ক্ষেত্রে গাইনি সমস্যাও দেখা হবে। মারাত্মক রোগীকে যৌথ উদ্যোগে সরকারি হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি বনানী, নিকেতন ও বারিধারা সোসাইটির রিকশাচালকদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ৫০ হাজার নিবন্ধিত রিকশাচালককে এই সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঝ/০৪

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY