রাজধানীর বুকে আধুনিক গ্রাম শেকৃবি

12

a

লাইভ বার্তাঃ

ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটেছে, শীত এখনও তার অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। প্রকৃতি তার স্বমহিমায় মুগ্ধ করছে সকলকে। কিন্তু প্রকৃতির এই রূপ-মাধুর্য উপভোগ থেকে অধিকাংশ শহুরে লোক বঞ্চিত। ঢাকা শহরের মাঝে একটা গ্রামীণ পরিবেশ যেন শুধুমাত্র কল্পনার বিষয়, বাস্তবের নয়। রাজধানী ঢাকায় মনোমুগ্ধকর গ্রামীণ পরিবেশের সংস্পর্শে আসতে চাইলে চলে আসুন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রতিদিন প্রচুর লোকের সমাগম দেখা যায় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে। পার্শ্ববর্তী কিন্ডার গার্টেন, স্কুল, কলেজের অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকসহও বেড়াতে আসেন। এক টুকরো সবুজ বা একটু মুক্তবাতাসের সন্ধানে অনেকেই ছুটে আসছেন। তাই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কেউ কেউ রাজধানীর আধুনিক গ্রামও বলে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে শান্ত, সুশীতল রাখতে চিরসবুজের বৃক্ষগুলো যেন নিজ থেকেই দায়িত্ব পালন করছে।



পিচঢালা রাস্তার দুপাশের রঙ বেরঙয়ের ফুল গাছগুলো যেন পথচারিকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। বাগানের বিভিন্ন রকমের ফুলগুলো যেকোনো প্রকৃতি-প্রেমিককে উদাস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। ফুলে ফুলে শোভিত এই ক্যাম্পাসের গবেষণা মাঠগুলোতেও রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমী ফুলের সমারোহ।

ক্যাম্পাসজুড়ে নাটক, সিনেমা, মিউজিক ভিডিওর শ্যুটিংও হয় প্রায়ই। বিকেলে বা সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের জমজমাট আড্ডা জমে ওঠে চত্বরে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন গোলাপ, ডালিয়া, এস্টার, গাদা প্রভৃতি ফুলশোভিত প্রাঙ্গণকে। উপাচার্যের বাসভবনটিও বিভিন্ন রকম ফুলগাছে সুসজ্জিত।

ফুলের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা সম্পর্কে ড. এ এম ফয়েজ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, গোলাপ গাছের টবে হাঁড়ের গুড়া ও খৈল পচা পর্যাপ্ত পরিমাণে দিলে ফুলের সংখ্যা ও মান বাড়ে এবং এক্ষেত্রে ডালপালা ছেঁটে দেয়া অত্যাবশ্যক।

দর্শনার্থীদের একজন সাজিদা খানম বলেন, কাঠ-খোট্টার এই শহরে এমন নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন কল্পনাই করা যায় না! তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে আসি।

বাগানের ফুলগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে সিলভিয়া, হাইব্রিড এফ ইনকা, ডালিয়া, জিনিয়া, দোপাটি, কসমস, কার্নেশান, ক্যালেন্ডলা, ডুয়ার্ফ রঙ্গন, বড় গোলাপ, পান্সি, পিটুনিয়া, ডায়ান্থাস, গাজানিয়া, চন্দ্র মল্লিকাসহ বাহারি ফুল। হাইব্রিড ইনকা যা গাঁদা ফুলেরই একটি বিদেশি প্রজাতি।

ঝ/১০

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY