মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির দাবি

61

a

লাইভ বার্তাঃ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। নারীরা সম্ভ্রম হারাচ্ছে। মানবতাবিরোধী এসব অপরাধ বন্ধে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের প্রেসক্লাবের সামনে ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিশিষ্ট পাঁচ নাগরিকের আহ্বানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ইউজিসি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সরাসরি উসকানিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এটি একটি জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করার দীর্ঘস্থায়ী প্রয়াস। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে সারা বিশ্বকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, কিছুদিন পরপর ইস্যু সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এ নির্যাতনে প্রতিবারই মানবতার বিপর্যয় ঘটে। এখন রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ববিহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে যথাযথ ভূমিকা না রাখায় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির সমালোচনা করেন আবুল মোমেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের যে ভূমিকা রাখার কথা, সেটি রাখছে না। মিয়ানমার থেকে হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের বিপর্যয়কে বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে।

আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রণজিৎ দে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশ গুপ্ত, নাট্যজন জাহাঙ্গীর কবির, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সুভাষ বড়ুয়া প্রমুখ।

ঝ/০৩

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY