মাহমুদউল্লাহর ঠান্ডা মেজাজে খুন শ্রীলঙ্কা

11

ক্রীড়াডেস্কঃ

দ্বিতীয় বারের মতো নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল খেলতে সব আয়োজনই প্রস্তুত রেখেছিল শ্রীলঙ্কা। অতি উৎসাহী হয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে অঘোষিত সেমিফাইনালের আগেই অতিথিদের দিয়েছে ভারত-শ্রীলঙ্কা ফাইনাল ম্যাচের যানবাহনের পাস। লঙ্কান দর্শকরাও গতকালের ম্যাচে ‘ইটস টাইম টু গো হোম বাংলাদেশ’ লেখা প্লে-ক্লার্ড নিয়ে হাজির ছিল গ্যালারিতে।

কিন্তু শ্রীলঙ্কার সমর্থক ও আয়োজকদের সব উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা মাটি চাপা দিয়ে শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ফাইনালের টিকিট এনে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লঙ্কানদের চোখের জলে ভাসিয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশ।

চলমান টুর্নামেন্টেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সাকিব দলে ফেরায় নেতৃত্ব হারালেও গতকাল বাংলাদেশের জয়ে পথ দেখিয়েছেন মাহমুদউল্লাই। ‘সাইলেন্ট কিলার’ খ্যাত মাহমুদউল্লাহ সব সময়ে নিরবে থেকেই দলের সাফল্যে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু গতকাল শেষ সময়ের তার ছক্কায় বাংলাদেশের শাস্বরুদ্ধকর জয়ে এখন তাকে নিয়েই সরব সবাই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে মুশফিকের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর ভূমিকা বোধহয় সবারই জানা। ওই ম্যাচে জয়ের জন্য ৩ বলে ২ রান দরকার হলেও তা নিতে না পারায় খলনায়ক হয়ে উঠেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। নিদাহাস ট্রফিতে গতকাল শেষ মুহূর্তে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে নায়ক বনে গেলেন মিডলঅর্ডার এ ব্যাটসম্যান।

তবে মাহমুদউল্লাহর সচরাচর নায়ক হওয়া হয় না। তিনি নিজেও যেন স্বছন্দ পার্শ্বনায়কের চরিত্রেই। দলের প্রায় সব বড় জয়ে তার অবদান থাকেই। তবে আলোচিত কিংবা সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার না হলেও গায়েমাখার অভ্যাসও তার মধ্যে নেই। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ উইকেটে জয় পাইয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু সে ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ ৬০ রান করা ইমরুল কায়েস। সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই পরের বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়ে মূল নায়ক হতে পেরেছিলেন অবশ্য।

ইংল্যান্ডে গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। দলের বিপর্যয়ের সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি বেঁধে জিতিয়ে আনেন মাহমুদউল্লাহ। সেঞ্চুরি দুজনেরই। তবে ম্যাচ সেরা সাকিব। বেশিরভাগ আলোও শীর্ষ অলরাউন্ডারের উপর। মাহমুদউল্লাহ থেকে যেন সেই পার্শ্বনায়ক চরিত্রে। তবে গতকাল তার ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ভেঙে খানখান লঙ্কানদের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন। দলের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ১৮ বলে ৪৩ করে পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

গতকাল শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের যখন দরকার ২৩ তখনই ১৮তম ওভারের শেষ বলে সাকিবকে হারিয়ে চাপে পড়ে মাহমুদউল্লাহ ও বাংলাদেশ। ১৯তম ওভারের শেষ বলে মিরাজের রানআউটে আরও চাপে বাড়ে। শেষ ওভারে আম্পায়ারের নো বলের বিতর্ক, মুস্তাফিজের রানআউট আর গ্যালারির দর্শকদের কান ঝালাপালা করার শব্দের মধ্যেও মাহমুদউল্লাহ ছিলেন ‘কুল’। শেষ চার বলে ১২ রান নিয়ে দলকে একাই জেতালেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ সময়ে পরতে পরতে উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর ঠান্ডা মেজাজের কার্যকর ব্যাটিংয়ে খুন হল স্বাগতিক লঙ্কানদের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন।

আহাস/০০২ 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY