মাংস বিক্রি বন্ধের পেছনে নগর কর্মকর্তারা

9

l7

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঢাকা শহরে মাংস বিক্রি বন্ধের কারণ হিসেবে উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে দোষারোপ করেছে ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ইজারাদারদের নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের জন্য ৫শর উপরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কাছে। কিন্তু করপোরবশনের প্রধান নির্বাহী ও সম্পত্তি বিভাগের প্রধান কেউ তা আমলে নেয়নি। বরং তারা সময়ক্ষেপণ করে ইজারাদদের সাথে মিলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এছাড়া মাংস বিক্রি বন্ধের জন্য আরো অভিযোগকাকারী রয়েছেন, গাবতলী ইজারাদারিদের পেটুয়া বাহিনী হিসেবে পরিচিত কাইল্লা মজিবুর ও লুৎফর রহমান। তারাই মাংস ব্যবসায়ীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও নানা ধরনের অত্যাচার করতো।

এদিকে গত সোমবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত ঢাকা শহরে সকল মাংসের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীদের সকল অভিযোগ আমলে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।



এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক হয়েছে। আর সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ইজারাদারদের শোকজ করা হয়েছে এবং মাংস ব্যবসায়ীদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সেই সাথে ইজারাদারদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো পক্ষ আমাদের সহযোগিতা করছে না।

তিনি বলেন, যারা সত্যিকারের মাংস ব্যবসায়ী তারা সুযোগ পাবে। বাকিরা পাবে না। মাংস ব্যবসায়ীরা তালিকা দিলে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তা মিলিয়ে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে ব্যাপারী সমিতির সভাপতি হিসেবে দাবি করে আসা কাইল্লা মজিবুরকে সবার আগেই মূল হোতা হিসেবে চিনহিত করেছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

মজিবুরের বিরুদ্ধে মাংস ব্যবসায়ীদের অভিযোগ জানালে তিনি প্রথমে গালাগালি করেন মাংস ব্যবসায়ীদের। এরপর বলেন, আমি ব্যাপারী সমিতির সভাপতি। আমি কেন চাঁদাবাজি করব?

মজিবুর সভাপতি নই এমন কথা জানান ব্যাপারী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার মণ্ডল। মজিবুর ২০০০ সালে সভাপতি ছিলেন, এখন নেই।

এ বিষয়ে মজিবুর বলেন, এটা মিথ্যে কথা আমি সভাপতি। এরপর আবার গালাগালি করেন তিনি।

এদিকে কাইল্লা মজিবুরকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা মাংস ব্যবসায়ীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমলে নেয়নি।

মাংস ব্যাবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চামড়ার দাম কম ও পুলিশ থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মহলে অতিরিক্ত টাকা দেয়ার জন্য নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দামে মাংস বিক্রি করা হতো।

এদিকে মাংস ব্যবসায়ীদের তালিকা করপোরেশনের পক্ষ থেকে চাওয়ার বিষয়ে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল বলেন, নাগরিক অধিকার সবার আছে। শিডিউলের কোথাও উল্লেখ নেই তালিকা করার। নিজেদের সমস্যা অন্যদিকে নেওয়ার জন্য তারা শিডিউল চাচ্ছে।

রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধের দাবিতে এর আগে একবার গত বছরের ১৯ জুন ধর্মঘট ডেকেছিলেন মাংস ব্যাবসায়ীরা।

মাংস বিক্রি বন্ধের আগে প্রতিকেজি গরুর মাংস রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হতো ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর খাসির মাংস বিক্রি হতো ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

বর্তমানে রাজধানীতে গরুর ও খাসির মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। শহরের কোন হোটেলে এই মাংস বিক্রি হচ্ছে না। তবে সুপার শপে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ টাকা কেজিতে। তবে একজন ৩ কেজির বেশি নিতে পারছে না।

এসব বিষয়েও কথা বলেন মাংস ব্যবসায়ীরা তারা বলেন, গুট কয়েক ব্যক্তির জন্য কোটি কোটি মানুষ মাংস খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জ/০০৭

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY