ভারত পানিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাচ্ছে

9

লাইভ বার্তা ডেস্কঃ
basadবাসদ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ভারতের শাসকগোষ্ঠী তাদের হীনস্বার্থে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে কখনো পানি সমস্যাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। কখনো সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার নামে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। একইভাবে বর্তমান সরকারসহ অতীতের সব সরকার নির্লজ্জভাবে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের প্রতি নতজানু থেকে কার্যত ভারতের আগ্রাসী পানি নীতিকে সমর্থন যুগিয়েছে।

তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বাসদ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের উদ্যোগে ১৫-১৬ ফেব্রুয়ারি দু’দিনব্যাপী বগুড়া থেকে তিস্তা ব্যারেজ রোডমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন। বগুড়ার সাতমাথায় বাসদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। রোডমার্চের উদ্বোধন করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান।

এতে খালেকুজ্জামান বলেন, শাসক শ্রেণি ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র বলে ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা তুলতে চায়। ভারত একের পর এক নদীর পানি প্রত্যাহার করলেও বাংলাদেশের সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না জোট-মহাজোটের ভোটের রাজনীতির কাছে দেশ, জনগণ, নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ কোন কিছুই গুরুত্ব পায় না।

তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশ আজ মরুকরণের হুমকির মুখে। উজানে একতরফা পানি সরিয়ে নেয়ার ভারতীয় আগ্রাসী তৎপরতা ও দেশের ভিতরে সরকারের নতজানু, ভ্রান্তনীতি ও দখল-দুষণে ১২০০ নদী কমে ২৩০ এ নেমে এসেছে এবং নদীর চেহারা খালে পরিণত হয়েছে। দেশের চতুর্থ বৃহত্তম নদী তিস্তায় এবারে শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই পানি প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। শুধু তিস্তা নয় ভারত থেকে আগত ৫৪টি নদীতে ভারত একতরফা বাঁধ দিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি লংঘন করে পানি প্রত্যাহার করছে। ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার কথা সবার জানা আছে। সুরমা-কুশিয়ারা তথা মেঘনা নদীর উজানে বরাক নদীর টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে ভারত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে কার্যত সুরমা-কুশিয়ারা তথা মেঘনা নদীকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য আন্তঃনদী সংযোগের খড়গ মাথায় ঝুলছে। ভারতের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে নদীমাতৃক সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলা বাংলাদেশ অনিবার্য ভাবে মরুভূমির দেশে পরিণত হবে।

তিনি সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার আর সরকারের নতজানু নীতির প্রতিবাদে এবং তিস্তাসহ সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, শুধু তিস্তার পানিরই সমস্যা নয়, ফারাক্কার প্রভাবে গোটা উত্তরবঙ্গ মরুভূমি হওয়ার পথে। ভারতের সাথে পদ্মা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ অভিন্ন ৫৪ নদীসহ ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টনের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে এবং অভিন্ন নদীর পানি সমন্বিত ও যৌথ ব্যবস্থাপনা-ব্যবহার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চীন, ভারত, বাংলাদেশ, পেনপাল ও ভূটানের সাথে যৌথ অববাহিকা কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন।

বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাহেদুল হক মিলু বলেন, বাস্তবে ভারত বন্ধু নয় একটি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র। ফলে সাম্রাজ্যবাদের চরিত্র অনুযায়ী ভারত পার্শ্ববর্তী দেশের উপর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামরিক-সাংস্কৃতিক কর্তৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার করতে চায়। সেজন্যই ভারতের বাতিল প্রকল্প বাংলাদেশে এনে সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করার চক্রান্ত করছে।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাষা সৈনিক মাফুজুল হক দুলু, নওগাঁ জেলা বাসদ সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুল, বাসদ সিরাজগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমরেড নব কুমার কর্মকার, বাসদ রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক দেবাশীষ রায়, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস প্রমুখ।

উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে রোডমার্চটি তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে যাত্রা শুরু করে সাতমাথা থেকে শহর প্রদক্ষিণ করে মাটিরডালি পর্যন্ত মিছিল করে যায়। পথে রোডমার্চ মহাস্থানগড়, মোকামতলা, ফাঁসিতলা, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, শঠিবাড়ীতে সমাবেশ করে রংপুরে রাত্রীযাপন করবে এবং পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় রংপুর প্রেস ক্লাব থেকে মেডিক্যাল মোড়, পাগলাপীর, বড়ভিটা, জলাঢাকা, ভাদরুদরগা, ডিমলা, শুটিবাড়ী, তিস্তা ব্যারেজ গিয়ে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং সমাপনী সমাবেশ থেকে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

(লাইভবার্তা২৪ডটকম /জিএম/জানুয়ারী ১৬, ফেব্রুয়ারী, ২০১৭)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY