ভাঙ্গলো ২০ দলীয় জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

95

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ লেবার পার্টির পর এবার ভেঙে গেলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পরপরই ২০ দলীয় জোট ন্যাপ ভাসানী ভাঙ্গনের মধ্য দিয়েই জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে ভাঙ্গনের শুরু হয়। শেখ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধিন ন্যাপ ভাসানী জোট থেকে বেরিয়ে গেলে রাতারাতি কল্যাণ পার্টির গাইবান্ধা জেলা সহসভাপতি এডভোকেট আজহারুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে নতুন ন্যাপ ভাসানীর জন্ম দিয়ে জোটের সংখ্যাতত্ত্ব ঠিক রেখেছিল বিএনপি।

যদিও রাজনীতিতে এ ধরনের নোংরামি কখনো হয়নি। যা বিএনপি করেছিল।

পরবর্তীতে শেখ শওকত হোসেন নিলু’র নেতৃত্বে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি-এনপিপি জোট থেকে বের হয়ে গেলে তার মহাসচিব এডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে চেয়ারম্যান করে নতুন একটি এনপিপির জন্ম দিয়ে জোটে রাখা হয়। এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে দলের একাংশ জোট থেকে বেরিয়ে গলেও থেকে যায় দলের চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার নেতত্বে একাংশ। এম.এ. রশিদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির একাংশ বরে হয়ে যায় জোট থেকে।

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ও মুফতী ফয়জুল্লাহর নেতৃত্বে কাউন্সিল অধিবেশেনের মাধ্যমে ইসলামী ঐক্যজোট ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করলেও সেদিনই গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এম.এ রকিবে ও আবদুল করিমের নেতৃত্বে একটি ইসলামী ঐক্যজোটের জন্ম দিয়ে জোটের সংখ্যাতত্ত্ব ঠিক রাখা হয়।

পরবর্তীতে মহিউদ্দিন বাবলুর নেতৃত্বে জাগপা’র একাংশও জোট ত্যাগ করে।

এদিকে শনিবার ভাঙ্গনের মুখে পড়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।

শনিবার সকালে দলটির নির্বাহী সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুফতি ওয়াক্কাছের নির্বাহী সদস্যপদ স্থগিত করেছে দলের একটি অংশ। এ অংশের কার্যনির্বাহীর বৈঠকে মুফতি ওয়াক্কাছের সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন এ বিষয়ে বলেন, ‘সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে সহ-সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাছের দলীয় নির্বাহী সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুফতি ওয়াক্কাছ জানান, এ মাসের মধ্যেই পাল্টা সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণা দেবেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যারা সদস্যপদ স্থগিত করেছেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক, অবৈধ। তারা অনধিকার চর্চা করেছেন। আমরাও পাল্টা সম্মেলন করব। আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।’

গত ৫ নভেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি ভেঙে যায়। দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে। দু ভাগে বিভক্ত হয়ে দলের নতুন চেয়ারম্যান করা হয় দুইজনকে।

একপক্ষ দলের ভাইস চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরীকে চেয়ারম্যান মনোনীত করেন।

অার পার্টি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বুয়েটের সাবেক ছাত্রনেতা, ইঞ্জিনিয়ার মো. ফরিদ উদ্দিনকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। লেবার পার্টির গঠনতন্ত্রের ১৭ (গ) ধারা মোতাবেক তিনি এ মনোনায়ন প্রদান করেন।

(লাইভবার্তা২৪ডটকম /জিএম/ ডিসেম্বর ১০, ২০১৭)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY