বিএনপির ভিতরে-বাইরে চক্রান্ত হচ্ছে : আব্বাস

17

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের ভিতরে ও দেশের বাইরে এমনকি বিএনপির ভিতরে এবং বিএনপির বাইরে একটা চক্রান্ত হচ্ছে। যাতে করে বেগম খালেদা জিয়া জেলে থেকে বের হতে না পারেন।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যারা আজকে বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তারা একটা সময় ভেবেছিল জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর বিএনপি ধ্বংস হয়ে যাবে। আজকেও যারা বিএনপির মাঝে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে, আমি তাদের বলব সেই সময় চলে গেছে। আমরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন এবং আমরাই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো। বিএনপির খোর খাওয়া নেতাকর্মী কখনো বেইমানি করবে না।’

যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘আমাদের এই দলটাকে দুর্বল করার জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া যেন কাজ না করতে পারে সেদিকে যুবদলকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের কিছু ব্যর্থ নেতাকর্মী রয়েছে যারা নেতৃত্ব চায় কিন্তু নেতৃত্ব দিতে পারে না।’

স্বাধীনতার যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেনি। তারা আজ ক্ষমতা দখল করে বসে আছে এবং তারা এদেশকে পরাধীন করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, ‘আমরা এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছি, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, ৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। বিশেষ করে ৯০’র আমাদেরকে এই যুবদলকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছি। কারণ তখন সাহায্য না করলে এই সরকারের পরিবর্তন ঘটতো না। তখন আমরা কেউ পদ এবং নাম নিয়ে ভাবি নাই। আমরা সরকার পতনের চেষ্টা করেছি। আজ আপনাদের তাই করতে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের দেশে জেলখানায় ৩৫ হাজার বন্দি রাখা যাবে, সেখানে ৮৫ হাজার বন্দী রাখা হয়েছে। কেউ বলছে ৯৫ হাজার, এতে বুঝা যায় কিছুদিন পর পুলিশ চাইলেও আমাকে গ্রেফতার করতে পারবে না। কারণ জেলে আমাদের জেলখানায় কোনো জায়গা নাই।এই জেলখানায় বন্দি শুধু বিএনপি নেতাকর্মীরা হবেন না, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হবেন। আজকে বেগম খালেদা জিয়া শুধু জেলে নয় গোটা বাংলাদেশ আজকে কারাগারে বন্দি।

নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু হয়নি। এবার ৩ সিটি নির্বাচনের কার্যকলাপ দেখবো। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয় আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমরা দ্বিতীয়বার ভাববো। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আসবেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। তারপর আমরা নির্বাচনে যাবো।’

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রেজাউল কবীর পল। সঞ্চালনা করেন ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধূরী এ্যানি, ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশরাফ, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান প্রমুখ।

লাইভবার্তা/ জিএম / ১৪ জুলাই, ২০১৮

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY