বউরা সিরিয়ালে ডুবে, বরকে চা দেয়ার সময় নেই, মন্তব্য মন্ত্রীর

1136

লাইভ বার্তাঃ 

porokiya

সাংস্কৃতিক পরাজয় তো একটা হয়েছেই। ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে সামাজিক সম্পর্কগুলোও টানপড়েনে ! বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত পরিবার হতে শুরু উচ্চবিত্ত ঘরেও এখন অযাচিত সিরিয়াল দেখার নিত্য বাস্তবতা। এ যেন সময় নেই কেও কাউকে দেখার। হাতে সেল ফোন আর ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে চলতে থাকা সারাদিন রাতের সিরিয়াল। এই হচ্ছে অধুনা জীবনের নমুনা। আমাদের নারীকুল থেকে ভারতেও এই প্রচ্ছন প্রভাব পড়েছে। টিভি দেখার সুযোগ নেই পুরুষ জাতির-এমন অনেক পরিবারও আছে। সারাদিন কর্মব্যস্ততায় পার করে ঘরে ফিরে দেশ বিদেশের খবর কিংবা খেলাধুলা দেখার সুযোগ নেই এক অ- সংস্কৃতির চাদরে।

এদিকে খোদ ভারতেই নারীদের নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করলেন গোয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী। বুধবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন দয়ানন্দ মন্দ্রেকর।

তিনি বলেন, ‘আজকাল নারীরা টিভি সিরিয়াল দেখতে এত ব্যস্ত, যে স্বামী অফিস থেকে বাড়ি ফিরলেও পাত্তা পান না। স্বামী বাড়ি ফিরলেও টিভি দেখতে ব্যস্ত স্ত্রী চা পর্যন্ত বানিয়ে দেন না। ’ টিভির কারণে সপরিবারে উৎসাহের সঙ্গে নাটক দেখার দিন অতীত হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন । তবে তাঁর মতে, টিভিতেও ভালো অনুষ্ঠান হয় কিন্তু, বাড়ির বধূদের সিরিয়াল দেখার কারণে ভালো অনুষ্ঠান দেখা হয় না।a

এদিকে, সংস্কৃতিমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে গোয়ার রাজনীতিতে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুনীল কথানকার বলেন, ‘এই মন্তব্য বিজেপি দলের খাপ পঞ্চায়েতের মতো মানসিকতার প্রমাণ দেয়। ওদের নিম্ন মানসিকতার প্রমাণ এই মন্তব্য। ’ গোয়া বিজেপি’র তরফ থেকে অবশ্য এই নিয়ে মুখ খোলা হয়নি।

অন্যদিকে গোয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী দয়ানন্দ মন্দ্রেকর হয়তো সামাজিক ভাবে কট্টর থেকেছেন কিন্তু সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তো অস্বীকার করার সুযোগও নেই।

বাংলাদেশে ইদানিং চলছে টেলিভিশন শিল্পীদের আন্দোলন। চার দফার দাবী থাকলেও বিদেশী সিরিয়ালের ডাবিং বন্ধ করা হতে শুরু করে শিল্পীদের সম্মানি, বিজ্ঞাপন নীতি ইস্যুতে তাঁদের আন্দোলন। কিন্তু শিল্পী সমাজকেও বুঝতে হবে কেন তাঁদের শিল্প কে কদর করার জায়গায় নেই চ্যানেলগুলো? সিরিয়াল তো বাংলাদেশেও হচ্ছে। ভারতের সিরিয়ালগুলোর অনুকরণে পরিপাটি বাহারি সাজে এইসব সিরিজেও নারীদের কে অবাস্তব চরিত্র হিসাবে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের দর্শকও দেখছে এরা অনুকরণ করছে। তাহলে নকলটা কেন- আসল টাই দেখি।  যদিও বেশ কয়েক বছর ধরে রম্য আদলে বিভিন্ন জেলার ভাষা, কৃষ্টি নিয়েও দেশে সিরিয়াল চলেছে, চলছে। কিন্তু এগুলোও টাইপড হয়ে গেছে বলে অনেকে মনে করেন। তবে তাহলে সমাধান কি ? কার্যত নির্মাতাদের নতুন নতুন সৃষ্টিশীল সৃজন চিন্তা  বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বাঁচাতে পারে।

অ- সংস্কৃতি কোথায় নিয়ে যাচ্ছে মানুষকে! সন্তানদের মধ্যেও আবেগ কমে আসছে। তাঁরা এখন তথ্য প্রযুক্তির নামে ই গেম খেলছে, ঘরের নারীকুল পর পুরুষে আসক্ত হচ্ছে, এসবই তো চলছে। সামাজিক আঙিনায় কদর্য সাংস্কৃতিক বাস্তবতার রাহুতে পরিবার। পুরুষ শ্রেণিও সমাজের বিকৃত কিছুকে সঙ্গি করে সামাজিক মূল্যবোধ হতে সরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গোয়ার মন্ত্রী নারী সমাজ কে কটাক্ষ করেছে কিনা তা বলা যাচ্ছে না কিন্তু সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর বর্তমান পরিবেশ নিরাপদে নেই, সাংস্কৃতিক অভিরুচী অত্যন্ত নিম্নমানের জায়গায় আসাতে এমন টা হচ্ছে বলে মনে করার সুযোগ আছে।

তাত্বিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং সম্প্রতি  বলেছেন, আমাদের কাছেই এমন কিছু মজুদ আছে যা এই পৃথিবীকে ধ্বংস করা যায়। কিন্তু তারকাদের রাজ্যে মানব বসতিতে স্থায়ি করার উদ্যোগ নিতে হবে। সারা পৃথিবীতে এক শ্রেণির কাছে অর্থ চলে যাচ্ছে, গেছে। এই বৈষম্য হলে হবে না। হকিং যে উন্নত চিন্তা করছে তাঁর ভাবনাকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের একজন দার্শনিক ( নাম প্রকাশ করা হতে বিরত আছেন) বলছেন, “সারা পৃথিবীর সকল মানুষগুলোকে এককাট্টা করা যায় সাংস্কৃতিক ভাবেই। অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে না, থাকবে একটি সুনির্দিষ্ট সামাজিক সাংস্কৃতিক রীতি। সূর্য ওঠার অপেক্ষায় থাকবে জনশ্রেণি। আর সূর্যাস্তের পরের সময়টাকে মানুষ যদি শোকের, কান্নার ও কষ্টের মনে করে তবে পৃথিবীতে সামাজিক সাংস্কৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে। মানুষ তখন পাপাচার, অনাচার থেকে দূরে সরে যাবে- যার প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতেও। তখন শ্রেণি বৈষম্য দূর হবে। আর বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক সূত্র থাকতে হবে কিন্তু সেটা নিজস্ব কৃষ্টির বাইরে থেকে নয়। এতে করে সামাজিক বিপর্যয় ধরা দেয়।”

do_you_have_sexual_intercourse_before_and_after_them_defeat

ঠিক এই মুহূর্তের আসল বাস্তবতা সত্যিই ঘরের স্ত্রী তাঁর পতিকে সম্মান করার জায়গায় থাকছে না। পতিও ঠকাচ্ছে তাঁর সহধর্মিণীকে। এমন উদ্ভূত প্রেক্ষিত কে স্বাগত জানানোর কিছু নেই। ৯০’র দশকে কবি রুদ্র বলেছিল, বেশ্যাকে তাও বিশ্বাস করা চলে কিন্তু ঘরের বউকে আর তা করা যাচ্ছে না। কিন্তু সেই সময়ে  অ- সংস্কৃতি  ততটা বিপথগামী কি ছিল ? আজ যে সময়টাই বড় অ-সাংস্কৃতিক। !

হা/লা/১৭০০

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY