প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি : অব্যাহতির আবেদনে বিচারকের স্বাক্ষর

62

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১১ আসামির অব্যাহতির আবেদনটি ‘দেখলাম’ উল্লেখ করে তাতে স্বাক্ষর করেছেন বিচারক।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব অব্যাহতির আবেদনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি দেখলাম বলে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মামলার নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন।

এদিন প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরীসহ ১০ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম সুব্রত ঘোষ শুভ প্রধান প্রকৌশলী দেবেশসহ ৯ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেন।

বিমান বন্দর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মনিরুজ্জামান মন্ডল ,অতিরিক্ত উপ-পরিদর্শক রতন লাল দে ও মুন্সি আলতাফ হোসেন জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের অব্যাহতি প্রদানের আবেদন চূড়ান্ত করে গত ৬ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসিটি) ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম।

এ মামলার ১১ আসামি হলেন-বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, প্রকৌশলী জাকির হোসাইন, টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল ও জুনিয়ার টেকনিশিয়ান শাহ আলম।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিয়োজিত উড়োজাহাজটির ওয়েল প্রেসার সেনসার পরিবর্তনের কাজটি করেন সিদ্দিকুর রহমান এবং সহযোগিতা করেন মেকানিক শাহ আলম। ওই সময় ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হক পরীক্ষার (লিক চেক) জন্য তিনবার ভিতরে (কউল) প্রবেশ করেন। তবে তিনি তদন্ত কমিটির কাছে একবার ভিতরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন আর দুইবার অস্বীকার করেন। ফলে নাজমুল হকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। তবে তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনের আলোকে ঘটনায় নাশকতা, আত্মঘাতী ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি মেরামত করে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছান।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এর আগে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের তিন প্রকৌশলীও।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলীসহ ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়। বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়েল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

জ / ০০৫

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY