প্রধানমন্ত্রীকে কদমবুছি করে আশীর্বাদ নিলেন রসিক মেয়র

66

নিজেস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদ নিয়েই পথ চলতে চান রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক)’র নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। শপথ গ্রহনের পর পরই প্রধানমন্ত্রীর কদমবুসি করে সে প্রত্যয়ের কথাই ব্যক্ত করেলন এই রসিক মেয়র।

গণভবনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছিল নবনির্বাচিত মেয়রের শপথ পাঠ। তাকে শপথবাক্য পড়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আনুষ্ঠানিক শপথ পাঠের পর প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগিয়ে যান মেয়র মোস্তফা। নুয়ে কদমবুসি করেন প্রধানমন্ত্রীকে।

আর নিজের বাম হাতটি মাথায় আর ডান হাত পিঠে বুলিয়ে দিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় আশীর্বাদ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় জাতীয় পার্টির অপর নেতা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধিন জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রধান বিরোধী দল। এছাড়া সরকারেও রয়েছে এই দলের অংশগ্রহণ। দলের পক্ষ থেকে কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভায়ও রয়েছেন। দলের চেয়ারম্যান এরশাদ মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রংপুরের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি জোট শরিক হিসেবে নয়, এককভাবে আলাদা প্রার্থী দিয়ে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়ে তবেই জয়ী হয়েছে। মোস্তাফিজার রহমান বিপুল ভোটের ব্যবধানে সরকার সমর্থিত আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করেই হয়েছেন রংপুরের নগর পিতা।

আওয়ামী লীগ তথা সরকার থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনে তাদের দলের হার হয়েছে ঠিকই তবে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। আর রসিক মেয়রকে প্রধানমন্ত্রীর মাথায় পীঠে হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ আরেকটি কথা প্রমাণ করে, সরকার প্রধান যিনি তিনি সবার। হোক সে জাতীয় পার্টি কিংবা নিজ দলের। এমনকি বিএনপির বেলায়ও জাতি দেখেছে তার একই আচরণ।

মোস্তাফিজার কিন্তু এমন প্রথম উদাহরণ নন। এর আগে বিএনপি সমর্থিত, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়ে শপথ পাঠ করেছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোররেশন (কুসিক) মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। শপথ নেওয়ার পর তিনিও সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করে তার কাজ চালিয়ে নেওয়ার আশীর্বাদ চেয়েছিলেন।

একটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মানেই তিনি রাষ্ট্রের সেবক, সরকারের অংশ। তাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাতেই কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞমহল মনে করেন, একটি দেশের রাজনীতিতে যখন দল-মতের ঊর্ধ্ব উঠে যেতে পারেন কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তখন তা সার্বিকভাবে গোটা দেশের জন্য, সমাজের জন্য এবং রাজনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে সৃষ্ট এই দৃশ্য দেশে সহনশীল রাজনীতি চর্চার পথ আরও সুগম করবে এটাই তাদের বিশ্বাস।

(লাইভবার্তা২৪ডটকম /জিএম/ ডিসেম্বর ২৯, ২০১৭)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY