পুঁজিবাজারে বুঝে-শুনে বিনিয়োগের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

17

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বুঝে-শুনে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীল অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এ বাজারে বুঝেশুনে বিনিয়োগ করতে হবে’।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পুঁজিবাজারের ২৫ বছর রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ আহবান জানান তিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আগ্রহী হয়েছে। এরইমধ্যে চীন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে। আপনারা দেখে, শুনে, বুঝে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার হবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফান্ড’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে। মূল্যস্ফীতি এখন ৫ দশমিক ৪ ভাগে নেমেছে। প্রবৃদ্ধি যখন উচ্চ থাকে এবং মূল্যস্ফীতি যখন নিম্ন থাকে তখন অর্থনৈতিক সুফল জনগণ ভোগ করতে পারে। এখন প্রবৃদ্ধি বেশি ও মূল্যস্ফীতি কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করছে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত বর্ষাকালে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিন্তু এবারের বর্ষায় দাম বাড়েনি। খাদ্যপণ্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের দিন বদল হয়েছে, ভাগ্য বদল হয়েছে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন হয়েছে, শিল্পায়ন হয়েছে। দেশ ডিজিটালাইজেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে’।

দেশের পুঁজিবাজারের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুঁজিবাজার বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। পুঁজিবাজার হবে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের উৎস’।

তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ, সুখী দেশ। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়শীন দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আর ২০৪৩ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে। তখন বেঁচে থাকব কিনা জানি না তবে নতুন প্রজন্ম সুন্দরভাবে তা পালন করবে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের কথা মাথায় রেখে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে সেই পরিকল্পনাও আমরা নিয়ে রেখেছি। আমরা ডেল্টা প্ল্যান করেছি, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ দেশ উপহার পায়’।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাড়াও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লাইভবার্তা/ জিএম / ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY