কলেজছাত্রীসহ মা বোনকে পিটিয়ে জখম

63

a

লাইভ বার্তাঃ

আগের দিন কলেজছাত্রী নিরালা বেগমের (১৮) পথ আগলে তাঁকে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন সুমন মিয়া (২০)। বরাবরের মতো ওই দিনও নিরালার জবাব ছিল ‘না’। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর হাত ধরে টানাটানি করতে থাকেন সুমন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রক্ষা পান নিরালা। বিষয়টি সুমনের মা-বাবাকে জানিয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়।

এতে শুধু সুমনই ক্ষিপ্ত হননি, ক্ষেপে যান তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও। পরের দিন কলেজে যাওয়ার পথে নিরালার ওপর চড়াও হন সুমন। একপর্যায়ে মা-বাবার সহযোগিতা নিয়ে নিরালাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন তিনি। নিরালাকে রক্ষা করতে এসে হামলার শিকার হন মা রেজিয়া বেগম ও বোন কমলা বেগম। গত বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের পোড়াহাটি গ্রামে। নিরালা ও তাঁর মা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার নিরালার বাবা মইজ উদ্দিন বাদী হয়ে সুমনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন। গতকাল শুক্রবার নিরালা বলেন, গত বুধবারের ঘটনার কথা সুমনের পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে প্রতিকার চান তাঁরমা-বাবা। কিন্তু সুমনের মা-বাবা উল্টো তাঁদের গালমন্দ করেন। বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় সুমন তাঁকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে তাঁদের (সুমনের) বাড়িরউঠানে নিয়ে যান। সেখানে সুমন তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। পরে সুমনের মা ও ভাই এসে এই পেটানোতে যোগ দেন। এরই একপর্যায়ে সুমনের বাবা এসে মাথায় আঘাত করলে তিনি সংজ্ঞা হারান। রেজিয়া বেগম বলেন, ‘খবর পেয়ে আরেক মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নিরালাকে রক্ষা করতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওরা আমাদের লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলিশ রঞ্জন সরকার বলেন, লাঠির আঘাতে নিরালার মাথা ফেটে গেছে। চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। তাঁর সারা শরীরের জখম গুরুতর। নিরালার মা ও বোনের শরীরেও গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে।

বাজিতপুর থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সবাই পলাতক। তবে সুমন ও তাঁর বাবা রাজু মিয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। সুমন বলেন, নিরালাকে তিনি পছন্দ করতেন। তবে বৃহস্পতিবার ওই পরিবারের সঙ্গে সীমানা বিরোধ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। আর রাজু মিয়ার ভাষ্য, সুবিধা পাওয়ার জন্য সীমানা বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাকে প্রেমের প্রস্তাব ও ইভ টিজিং বলে ছড়ানো হচ্ছে।

ঝ/০৭

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY