ধুলা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটির পানি থেরাপি

7

a

লাইভ বার্তাঃ

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রতিদিন সকাল বিকেল পানি ছিটিয়ে ধুলা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি)। ঢাকা ওয়াসা থেকে পানি কিনে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি ছিটানোর এ উদ্যোগ নেয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পুরো নগরী ধুলায় ধূসর হয়ে পড়ে। এ কারণে পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও অফিসগামী মানুষ ভুক্তভোগী বেশি।

সিটি কর্পোরেশন বলছে, উন্নয়ন কাজে মাটি খোঁড়ার ফলে শুষ্ক মৌসুমে নগরজুড়ে ধুলাবালি হয়। সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগাদা দেয়ার পরও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ কাজের নির্দেশনাও মানছে না। তাদের চরম অবহেলা আর উদাসীনতার কারণেই এসব এলাকার বাসিন্দাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে নানা রোগব্যাধি।

এ অবস্থায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি ছিটানোর পরিকল্পনা নেয় সিটি কর্পোরেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ছিটানো পানিতে ধুলা মিশে যায়।



এদিকে অপেক্ষাকৃত বেশি ধুলার রাস্তায় পানি দেয়ার পর তাতে কাদা হয়। কোথাও কোথাও গাড়ির চাকার সঙ্গে এই কাদামাটির ছিটা মিশে পোশাক-পরিচ্ছদ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

সিটি কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত দেশেও ধুলা নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো হচ্ছে। তাই সিটি কর্পোরেশনও এ উদ্যাগটি হাতে নিয়েছে। পানি দেয়ার পর আর সড়কে ধুলা উড়তে দেখা যায় না। তবে যেসব স্থানে বেশি ধুলা দেখা যাচ্ছে সেসব স্থানে পানি ছিটানো হচ্ছে না। শুধু গুরুত্বপূর্ণ ও ভিআইপি সড়কগুলোয় পানি দেয়া হচ্ছে। অথচ এসব সড়কে তুলনামূলক ধুলা কম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর আবাসিক এলাকা রামপুরা, বনশ্রী, দক্ষিণ বনশ্রী, মেরাদিয়া, মাদারটেক, বাড্ডা, মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল, মগবাজার, মৌচাক, খিলগাঁও, মহাখালী, সাতরাস্তা, উত্তরা, মিরপুর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ধুলা উড়ে। এসব সড়কে চলছে ডিএসসিসি ও ঢাকা ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার উন্নয়ন কাজ। সংস্থাগুলোর পানির লাইন পুনঃস্থাপন, স্যুয়ারেজ লাইন সংস্কার, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ফ্লাইওভার বা ইউলুপ নির্মাণ, ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহৃত বালি, সিমেন্ট ও ইট থেকে সৃষ্ট ধুলাবালিতে ধূসর যাচ্ছে। অথচ সেদিকে নজর দেয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা নগরীর সড়কগুলোকে ধুলা থেকে মুক্তি দিতে পানি ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ফলে পথচারীরা ধুলার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে। শুষ্ক মৌসুমজুড়ে এ কার্যক্রম চলবে।

মঙ্গলবার ডিএনসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন  বলেন, ‘উন্নয়ন কাজের জন্য কোথাও কোথাও ধুলাবালি দেখা দেয়। আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ধুলা নিয়ন্ত্রণের জন্য সড়কে পানি ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছি। প্রথম অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ১৫ কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিন সকাল বিকেল পানি দেয়া হচ্ছে। এজন্য বেশ কয়েকটি গাড়ি ও জনবল নিযুক্ত করা হয়েছে।

ঝ/০৭

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY