দেশ কি গোয়েন্দারা চালাচ্ছে? : প্রশ্ন ফখরুলের

17

নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘দেশ কি এখন গোয়েন্দারা চালাচ্ছে’ সরকারের কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে ‘নিরাপত্তাজনিত কারণ’ দেখিয়ে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। দেশ কি গোয়েন্দারা চালাচ্ছে যে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সমাবেশের জন্য অনুমতি দেয়া হলো না?’

সোমবার (১২ মার্চ) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি না দেয়া প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটি নির্বাচনী বছর। সেজন্য সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর এজন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার দিতে হবে। তা না হলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিভাবে? সবাইকে নির্বাচন আনা তো সরকারের দায়িত্ব।’

নির্বাচন অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নেতা।

সরকার জনগণকে ভয় পায় বলে বিএনপিকে সমাবেশের মতো গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে অনুমতি দিচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা সব ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার বন্ধ করে দিচ্ছে। মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা সেই পথরুদ্ধ করে দিচ্ছে। ক্রমান্বয়ে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এর মাধ্যমে আবারও একটি একদলীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে সরকার।’

“জনসভার করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। বিএনপি নেত্রীর মুক্তি দাবিতে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। আমরা চাচ্ছি আমাদের ন্যূনতম যে গণতান্ত্রিক অধিকার সেটি যেন পালন করতে দেয়া হয়”- যোগ করেন তিনি।

দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়া আজ জামিন পাবেন বলেও এসময় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল।

‘গণবিচ্ছিন্ন সরকার জন-আতঙ্কে ভোগে’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের বিপুল সমাগমের সম্ভাবনা থাকলে সরকার অজানা আশঙ্কায় বিপন্নবোধ করে। এ কারণে বিএনপি’র জনসভাকে বানচাল করতে সরকার ধারাবাহিক বাধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।’

বিএনপির এই শীর্ষনেতা আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে বিক্ষোভ-সমালোচনা। গণতন্ত্র মানে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাসীন দলের একতরফা বলে যাওয়া নয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পাবলিক প্রপার্টি, এটি কোনও ব্যক্তি, দল বা জোটের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করা সম্পত্তি নয়। সেখানে যদি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ মহাজোটের অন্যান্য দল সমাবেশের অনুমতি পায়, তাহলে বিএনপিকে জনসভা করতে না দেয়া ক্ষমতাসীনদের হুঙ্কারসর্বস্ব রাজনীতিরই প্রতিফলন।’

এসময় মির্জা ফখরুল বেগম জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ১৫ মার্চ চট্টগ্রাম, ১৯ মার্চ ঢাকা, ২৪ মার্চ বরিশাল এবং ৩১ মার্চ রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশের ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড.আব্দুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

(লাইভবার্তা২৪ডটকম /জিএম/ মার্চ ১৩, ২০১৮)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY