দণ্ডের বিরুদ্ধে রাগীব আলীর আপিল

34

l1

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সিলেটের তারাপুর চা-বাগানের দলিল জালিয়াতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন দণ্ডপ্রাপ্ত শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই। বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে এ আপিল দাখিল করা হয়। আদালতের বিচারক আগামী ৮ মার্চ আপিল শুনানি ও জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরো দণ্ডবিধির চারটি ধারায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে দণ্ডবিধি ৪৬৬ ধারায় ছয় বছর, ৪৬৮ ধারায় ছয় বছর, ৪৭২ ধারায় এক বছর এবং ৪২০ ধারায় এক বছর করে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন।



আপিল দাখিলকারী রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের আইনজীবী আবদুর রহমান আফজাল (স্বপন) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাগীব আলীর পক্ষে আদালতে আপিল দায়ের করা হয়েছে। যাতে রাগীব আলীর জামিনেরও আবেদন করা হয়। আদালত তা গ্রহণ করে আগামী ৮ মার্চ আপিলের শুনানি ও জামিন শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন।

নয়-এর দশকে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তারাপুর চা-বাগান দখল করে নেন রাগীব আলী। প্রায় ৪২৩ একর ভূমির তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ওই চা-বাগান দখল করতে গিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র জালিয়াতি করেন তিনি। এ নিয়ে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা দুটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি তারাপুরে রাগীব আলীর দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে স্মারক জালিয়াতি ও আত্মসাৎ মামলা দুটি পুনরুজ্জীবিত করারও নির্দেশ দেন আদালত। ওই বছরের ১০ জুলাই রাগীব আলী, তার ছেলে আবদুল হাই, মেয়ে রুজিনা কাদের, জামাতা আবদুল কাদের, নিকটাত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদ ও তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ গুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত ১২ আগস্ট এদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই দিনই ছেলেকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান রাগীব আলী। গত বছরের ১২ নভেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে গ্রেফতার হন আবদুল হাই। পরে ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জে গ্রেফতার হন রাগীব আলী।

জ/ ০০১

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY