তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন

226

লাইভ বার্তাঃ

download

ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসির রায় বহাল রেখে বুধবার আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

এদিকে শুধু এ মামলা নয়, মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক মামলা, ২০০৫ সালে হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা, ২০০১ সালে সিলেটে নির্বাচনি জনসভায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা এবং একই বছর সিলেটের তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন কামরানকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলার মামলা। এ পাঁচটি মামলাই সিলেটে বিচারাধীন রয়েছে।

সিলেটের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মিসবাহউদ্দিন সিরাজ  বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক মামলার বিচার চলাকালে ২০১০ সালের ২ আগস্ট সিলেটের সরকারি কৌঁসুলির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। বিস্ফোরক মামলায় ৫৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলার অধিকতর তদন্ত করছে। এ মামলা ছাড়াও মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে সিলেট আদালতে আরও চারটি মামলা বিচারাধীন আছে।

আলোচিত এ মামলার রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকার প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদ হোসেন বলেন, ‘এতো দিন হয়ে গেছে, কিন্তু মনে হয় সেদিনের ঘটনা। ঘটনাটি নিয়ে জল ঘোলা করার অনেক চেষ্টা হয়েছে। দেরিতে হলেও প্রকৃত অপরাধী বের করে বিচারের মুখোমুখি করায় এবং সর্বোচ্চ আদালতেও দণ্ড বহাল থাকায় স্বস্তি পাচ্ছি। এ স্বস্তি পূর্ণতা পাবে রায় কার্যকর হলে।’

ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক মুহিবুর রহমান। পেশায় তিনি একজন আইনজীবীও। সিলেটের আদালতে এ মামলা চলাকালে সাক্ষীদের একজন ছিলেন তিনি। তিনি  বলেন, ‘শরীরে এখনও স্প্লিন্টার আছে। এতো বড় ঘটনা, কিন্তু বিচার দীর্ঘ হওয়ায় শরীরের চেয়ে মনের  যন্ত্রণা বেশি ছিল। এ যন্ত্রণার অবসান হওয়ার সুযোগ এলো এখন।’

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। এ মামলায় জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি)-র সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে সংগঠনটির প্রধান মুফতি হান্নানসহ বেশ কয়েকজনের নামে সিলেটে মামলা দায়ের হয়।

সিলেটর বিচারিক আদালতে বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর হুজি প্রধান মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। আসামিপক্ষ এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে।

এর প্রায় সাত বছর পর এ বছরের ৬ জানুয়ারিতে এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।  আসামিদের জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট। গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। গত ১৪ জুলাই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল।

বুধবার (৭ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার নির্দেশ দেন।

হা/লা১৭০০

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY