ছাত্রলীগ নেত্রী পাপিয়ার যুবলীগ নেত্রীর স্বামীকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তোলপাড়

1409

লাইভ বার্তা ঃ

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a7%a8-550x350

এবার একটি অন্য ধরণের সংবাদই বটে। দেশের ঐতিহ্যবাহী ইডেন মহিলা কলেজের এক আলোচিত ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে সামাজিক অভিযোগ। বলা হচ্ছে, তিনি যুবলীগের আরেক নেত্রীর স্বামীকে নিজের জীবনে নিয়ে এসেছেন। রাত যাপন করেন একত্রে। সেটা নিয়ে চলছে সামাজিক বৈরিতাও। এতে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন হচ্ছে বলেও রাজধানী ঢাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রাজধানীর ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী পাপিয়া রায়ের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেত্রী নিঝুমের স্বামী ছিনতাইয়ের এমন অভিযোগ উঠেছে। এমনকি হাতে নাতে নিঝুম মিরপুরের এক বাসা থেকে পাপিয়া ও তার জামাই মৃদুলকে হাতে নাতেও আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়াও গেছে।  পাপিয়ার বিরুদ্ধে এসব অনৈতিক অভিযোগ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি হয়ে মুল দল আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পর্যন্ত গড়িয়েছে। পাপিয়া ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক। এ ঘটনায় ইডেন কলেজ ছাত্র লীগের নেতা কর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বলে মত আছে।

জানা গেছে, মিরপুরের সাংবাদিক কলোনির ৪ নম্বর সড়কের ১৯২ নম্বর বাসায় ছয় তলায় পাপিয়ার ছোট ভাই তাপস ভাড়া থাকে। অন্য দিকে পাপিয়া থাকে ইডেনের হলেই। কিন্তু পাপিয়া ও মৃদুল ঐ বাসা মাস ছয়েক আগে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেয়। বাসা ভাড়া নেয়ার সময়ে পাপিয়া বাড়িওয়ালা ও দারোয়ানকে নিজের নাম পাপিয়ার বদলে তানহা নাম বলে। একই সাথে নিজেকে মুসলিম হিসাবে পরিচয় দেয়। এ দম্পতির সাথে এইচ এস সি পাস পাপিয়ার আপন ছোট ভাই তাপসও থাকবে বলে তারা জানায়। কিন্তু সামনে পরীক্ষা আছে কারণ দেখিয়ে পাপিয়া ইডেনের হলেই থাকতো, সময় সুযোগ মতো তারা দুজনেই ওখানে গিয়ে অবসর সময় কাটাতো । এ সময়ে পাপিয়ার ছোট ভাই তাপস নিজে সুযোগ করে দিয়ে বাসার বাইরে পাহারা দিয়ে বড় বোনের অভিসারকে সহযোগিতা করতো । মৃদুল ওই বাসার ভাড়া, সাংসারিক খরচ ও পাপিয়ার সব খরচই বহন করত।

নিঝুম জানান, ঘটনার দিনে হাতে নাতে ধরার পরে তাদের দুজনকেই নিঝুম নিজের সেন্ট্রাল রোডের বাসায় ধরে এনে পাপিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে তার বাবাকে ডেকে আনেন। ঘটনা শুনে পাপিয়ার বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ঐ রাতেই গোপালগঞ্জ থেকে নিঝুমের বাসায় আসেন এবং মেয়ের ঘটনা শুনে নিজেই নিজেকে ধিক্কার দেন। এক পর্যায়ে মুচলেকা দিয়ে মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান।%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-1

নিঝুম আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দলের মেয়েদের নিয়ে দু সপ্তাহ আগে গত ১৭ নভেম্বরে বিকাল ৫ টায় ওই বাসায় আশে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে হানা দেয়। দরজা নক করলে পাপিয়া অনেক সময় নিয়ে বাধ্য হয়ে বাসার অন্য রুমে মৃদুলকে লুকিয়ে রেখে দরজা খুলে। পরে ঐ রুম থেকে নিঝুম তার স্বামী মৃদুলকে বের করে। ঘটনা হাতে নাতে ধরার সময়ে অভিসারের সময়ে বাইরে পাহারারত পাপিয়ার ছোট ভাই তাপস এক ফাকে পালিয়ে যায়

এ সময়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা মিরপুরের বাসাতেই ঐ ভবনে বসবাসরত সব ভাড়াটিয়ার সামনেই পাপিয়াকে গন ধোলাইও দেয়। মৃদুল ও পাপিয়া উপস্থিত সবার হাত পা ধরে মাফ চায়। ঐ সময়ে ইডেন থেকে যাওয়া সব মেয়েরা বাড়ীওয়ালার মাধ্যমেই জানতে পারে পাপিয়া সেখানে তানহা নাম দিয়ে মৃদুলকে স্বামী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছে। অভিযোগকারী নিঝুম ছাত্রলীগ ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে নিঝুম যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক। নিঝুম যখন সভাপতি ছিলেন, গোপালগঞ্জের একটি সাধারন পরিবার থেকে ইডেনে ভর্তি হওয়া পাপিয়া তখন দলের একজন সাধারন কর্মী মাত্র।

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2                                       ঘটনার দিন রাতে ধারন করা ছবি

নিঝুম জানান, দলীয় কর্মী হবার সুবাদে পাপিয়া তার বাসায় মাঝে মধ্যে আসত। নানান রকম সাহায্য সহযোগিতা নিতো । এভাবেই তার স্বামী মৃদুলের সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে নিঝুমের অজান্তেই পাপিয়া ও মৃদুলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। নিঝুম বিভিন্ন সোর্স দিয়ে তাদের পরকিয়ার খবর শুনলেও তারা দুজনেই অস্বীকার করে আসছিলেন। এ বিষয়ে পাপিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি বানোয়াট বলে অভিযোগ করেন। ঘটনার দিনে তার বাসায় মৃদুলের উপস্থিতি, বাবার ঢাকা আসা, মুচলেকা দেয়া, ফ্লাটে তানহা নাম দিয়ে থাকা এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে পাপিয়া এক পর্যায়ে লাইন কেটে দেন।

পাপিয়ার বাবা ঘটনার পরে হরসিত রায় জানান, মেয়ে ঢাকা থাকে, বড় হয়েছে। রাজনীতি করেন। তিনি গোপালগঞ্জে থাকেন। মেয়ের ভাই পরিতোষ রায় এ বিষয়ে বলেন তারা নিজেরাও বিব্রত। পাপিয়ার ছোট ভাই তাপসকে দফায় দফায় ফোন দিলেও ফোন ধরেন নি। অন্যদিকে, ঘটনার নায়ক মৃদুলকে ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেন নি। ইডেনের সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা অবিলম্বে পাপিয়াকে সংগঠন ও কলেজ থেকে বহিষ্কার দাবি করছেন । অন্য দিকে পাপিয়া ছাত্রলীগ ও আওমী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দু-জন নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন সময় নিঝুমকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।

এদিকে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন  জানান, পাপিয়ার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ সমূহ তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত প্রমানিত হলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।

হা/লা/১৭০০

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY