চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস

62

dhaka

স্পোর্টস ডেস্কঃ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। সাকিব আল হাসানের ঢাকা বিপিএলের চতুর্থ আসরে, তৃতীয় বারের মত শিরোপা জয়ের উৎসব করলো।

আজ ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস ড্যারেন স্যামির রাজশাহী কিংসকে ৫৬ রানে হারিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতলো।

টস হেরে আগে ব্যাট করা ঢাকা ডায়নামাইটস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৫৯ রান। জবাবে মাত্র ১৭.৪ ওভার ব্যাট করে ১০৩ রানেই শেষ হয়ে যায় রাজশাহীর ইনিংস।

ফাইনালের মঞ্চে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ঢাকা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে স্যামি বল তুলে দেন টাইগার স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে। নিজের দ্বিতীয় বলেই মেহেদি মারুফকে বিদায় করেন মিরাজ। এক মেহেদির বলে উইলিয়ামসের তালুবন্দি হন আরেক মেহেদি। ১০ বলে একটি চারের সাহায্যে ৮ রান করেন ঢাকার ওপেনার মেহেদি মারুফ।

নাসির হোসেন মাত্র ৫ রান করে বিদায় নেন তিনি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে ধ্রুব স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন নাসিরকে। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় ঢাকা। ব্যাট হাতে নেমে দ্রুত বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন। স্যামির বলে এলবির ফাঁদে পড়ার আগে মোসাদ্দেক করেন ৫ রান।

এরপর জুটি গড়েন এভিন লুইস এবং কুমার সাঙ্গাকারা। এই জুটি থেকে আসে ২৫ বলে ৪১ রান। ইনিংসের ১১তম ওভারে ফরহাদ রেজার বলে উইলিয়ামসের তালুবন্দি হন এভিন লুইস। সাজঘরে ফেরার আগে ক্যাবিরীয় এই ওপেনার ৩১ বলে করেন ৪৫ রান।

ইনিংসের ১৩তম ওভারে বিদায় নেন ডোয়াইন ব্রাভো। রানআউট হয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ১৩ রান। তার ১০ বলের ইনিংসে একটি করে চার ও ছক্কার মার ছিল। দলীয় ১০১ রানে পাঁচ উইকেট হারায় ঢাকা। ঢাকার তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের দিকে তাকিয়ে ছিল ডায়নামাইটস। ইনিংসের ১৬তম ওভারে বিদায় নেন এই ক্যারিবীয়ান। সামিত প্যাটেলের বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন ফরহাদ রেজা। নিজের শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারায় বল শূন্যে ছুঁড়ে বাউন্ডারি সীমানার বাইরে চলে যান তিনি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল লুফে নিয়ে রাসেলকে ফেরান ৮ রানের মাথায়। ১১ বলে তার ইনিংসটিতে কোনো বাউন্ডারি ছিল না। দলীয় ১১৩ রানের মাথায় ষষ্ঠ উইকেট হারায় ঢাকা।

ঢাকার দলপতি সাকিব আল হাসান ৭ বলে দুই চারে ১২ রান করে ফরহাদ রেজার বলে বোল্ড হন। ইনিংসের ১৮তম ওভারে সপ্তম উইকেট হারায় ঢাকা। দলীয় ১৩০ রানের মাথায় বিদায় নেন সাকিব। ইনিংসের ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফেরেন আলাউদ্দিন বাবু। উইলিয়ামসের বলে স্যামির হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ১ রান করেন।

কুমার সাঙ্গাকারা ৩৩ বলে ৩৬ রান করে ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হন। ফরহাদ রেজা নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নেন। লঙ্কান এই গ্রেট ব্যাট হাতে উইকেটের একপ্রান্ত ধরে না রাখলে আরও আগেই ঢাকার লোয়ারঅর্ডারদের পরীক্ষায় নামতে হতো। সাঙ্গার ইনিংসে ছিল মাত্র দুটি চারের মার, সঙ্গে ছিল একটি ছক্কা। সাঞ্জামুল ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।

সাত বোলার বল হাতে নেন রাজশাহীর হয়ে। ফরহাদ রেজা তিনটি উইকেট তুলে নেন। একটি করে উইকেট পান উইলিয়ামস, মিরাজ, আফিফ, স্যামি আর প্যাটেল।

ঢাকার দেওয়া ১৬০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে রাজশাহীর হয়ে ব্যাটিংয়ে ওপেন করতে নামেন মুমিনুল হক ও নুরুল হাসান সোহান। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন নুরুল হাসান সোহান। আবু জায়েদের বলে আন্দ্রে রাসেলের তালুবন্দি হওয়ার আগে সোহান করেন মাত্র ৫ রান। দলীয় ১৫ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় রাজশাহী।

এরপর জুটি গড়েন সাব্বির রহমান এবং মুমিনুল হক। সেট হয়েও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি সাব্বির। ইনিংসের দশম ওভারে সাজঘরে ফেরেন রানআউট হয়ে। ব্যক্তিগত ২৬ রানে বিদায় নেন তিনি। ২২ বলে সাব্বির দুটি চার হাঁকান। সাব্বির-মুমিনুল মিলে স্কোরবোর্ডে আরও ৪৭ রান যোগ করেন। ইনিংসের ১১তম ওভারে সাকিব ফেরান মুমিনুলকে। রাজশাহীর এই ওপেনার ৩০ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে ২৭ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। দলীয় ৬৬ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় রাজশাহী।

চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন। ইনিংসের ১৩তম ওভারে সাঞ্জামুলের বলে ব্রাভোর তালুবন্দি হন তিনি। বাউন্ডারি সীমানায় ধরা পড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান। দলীয় ৭৬ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় কিংসরা। সামিত প্যাটেল এবং ড্যারেন স্যামি দলকে বেশি দূর টানতে পারেননি। ইনিংসের ১৪তম ওভারে সাকিব বোল্ড করেন স্যামিকে (৬)। আর এই উইকেটের মধ্যদিয়ে কেভিন কুপারকে হটিয়ে সাকিব বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটের (৬১) মালিক হন। পরের ওভারে সাঞ্জামুল ফিরিয়ে দেন সামিত প্যাটেলকে। ব্যক্তিগত ১৭ রানে আন্দ্রে রাসেলের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার আগে ১২ বলে একটি বাউন্ডারির দেখা পান প্যাটেল। দলীয় ৯১ রানের মাথায় ষষ্ঠ উইকেট হারায় রাজশাহী।

দলীয় ৯৩ রানের মাথায় বিদায় নেন মেহেদি মিরাজ। আবু জায়েদের বলে সাঞ্জামুলের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি করেন ১ রান। ১৭তম ওভারে ব্রাভো বোল্ড করেন ফরহাদ রেজাকে (২)। দলীয় ৯৮ রানের মাথায় অষ্টম উইকেট হারায় রাজশাহী। একই ওভারে ব্রাভোর থ্রোতে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়ামস (৪)। ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলে আন্দ্রে রাসেল ফেরান নাজমুল ইসলামকে। আফিফ ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। আর এর মধ্যদিয়ে তৃতীয় শিরোপা নিজেদের ঘরেই রাখে ঢাকা।

আহাস/০০১

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY