চিলে কান নিয়েছে শুনেই ছুটবেন কেন? : প্রধানমন্ত্রী

10

নিজস্ব প্রতিবেদক :
গুজব ছড়ালেই তা বিশ্বাস করতে হবে কেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, কিছু শুনলে আগে বুদ্ধির প্রয়োগ করে তা বিচার বিবেচনা করতে।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদেরকে হত্যা ও ধর্ষণের গুজব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের যে এলাকায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহত হয়েছিল সেই এলাকায় রবিবার আন্ডারপাস নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এটি নির্মাণ করবে।

এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে গুজব ছড়িয়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা এবং এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গুজবে বিশ্বাস করে বহু মানুষের সেদিন উত্তেজিত হওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ বলল, আপনার কান চিলে নিয়ে গেছে, আপনি চিলের পেছনে ছুটবেন কেন? এটা যেন না হয়। আগে কানে হাত দিয়ে দেখেন, আপনার কানটা আছে কি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই আন্দোলনে ছাত্র নামধারী যারা ঢুকেছে সেই অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্য খুব খারাপ ছিল। তখন কোনো কোনো মহল ফেসবুকে গুজব ছড়াতে শুরু করে যে আওয়ামী লীগ অফিসে নাকি মেরে লাশই রেখে দেয়া হয়েছে।

‘এই গুজবটা কারা ছড়াল?’-এই প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা অনুরোধ করব, গুজবে কেউ কান দেবেন না।’

গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিষয়ে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনকি অনেক বয়স্ক লোক, এমন লোকও আছে যাদের ভালো কাজের জন্য এক সময় অনেক পুরষ্কার দিয়েছি, অথচ তারাও যখন এই ধরনের গুজব ছড়াতে শুরু করল।’

‘আর যাই হোক, এগুলো তো আর সহ্য করা যায় না। তাই ছাত্রছাত্রী, শিক্ষারার্থী, এমনকি দেশবাসীকে অনুরোধ করব, কেউ গুজবে কান দেবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি সুশিক্ষার জন্য, আধুনিক শিক্ষার জন্য। অশ্লীল কথা, মিথ্যা কথা, গুজব-এসবের জন্য না। কাজেই এ থেকে বিরত থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ছাত্ররা রাস্তায় নামার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার নির্দেশ দেন। এমনকি যখন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা হয়, তখনও একই কথা বলেন।

“আমার আওয়ামী লীগ অফিস যখন আক্রমণ করে, অফিস থেকে আমার নেতা-কর্মীরা ফোন করে, ‘আমরা তো টিকতে পারছি না, সমানে পাথর মারছে’।”

‘অনেকে গেল তাদেরকে বুঝাতে, বুঝতে চায় না, আবার আক্রমণ করে ৪৬ জন আমাদের নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। জাপান-বাংলাদেশ হাসপাতালে তারা চিকিৎসা নিয়েছে, একজনের চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে গেছে। সে চক্ষু ইনস্টিটিউটে আছে। আমি বারবার তাদেরকে বলেছি তোমরা ধৈর্য ধরো।’

‘এমনকি বিডিআরের গেটে হামলা করেছে। আমি বলেছি, তোমরা কিছু করবে না, সরে যাও।’

‘এরা তো ছাত্র ছিল না’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের সুযোগ নেয়ার চেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘একটা পর্যায়ে যেয়ে দেখা গেল এরা তো ছাত্র না, এরা ছাত্র নামধারী কিছু লোক। ওই যে দর্জির দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সেখানে প্রচুর পরিমাণে স্কুলের ড্রেস তৈরি হচ্ছে আর ফেইক (ভুয়া) আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) তৈরি হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুটো দিন তাদের (শিক্ষার্থীদের) নিরাপত্তার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু তৃতীয় দিনে যখন দেখলাম যে সেখানে প্রচুর শিক্ষার্থী, খুব অবাক লাগল।’

‘নিচে অন্য শার্ট, রাস্তায় দাঁড়িয়ে সে শার্ট পরিবর্তন করছে অথবা সবাই স্কুল ড্রেস পরে ছাত্র হয়ে যাচ্ছে। যখন আমি দেখলাম এভাবে সব ছাত্র এবং ব্যাগের ভেতর থেকে দা চাইনিজ কুড়াল, পাথর, নানা ধরনের জিনিসগুলো বের হচ্ছে।’

‘তাহলে এরা কারা? এরা তো আর স্কুল ছাত্র হতে পারে না। তখনই আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়লাম। পরের দিন সকালে একটা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে …আহ্বান করলাম আমাদের ছাত্র ছাত্রীদের, তোমরা এখন ঘরে ফিরে যাও, শিক্ষক-অভিভাবকদের আহ্বান করলাম, আপনারা আপনাদের সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে নিন, কারণ এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে, যে কোনো সময় একটা ছাত্র ছাত্রীর ক্ষতি করে তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে, যেটা চরম জঘন্য কাজ।’

আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যাওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘কথা শুনুন, তারা তো আপনার নাতির মতো’
প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীরা রাস্তায় যখন গাড়ির কাজপত্র পরীক্ষা করছিল, একাধিক মন্ত্রীর পথ আটকেছিল, তখন মন্ত্রীরা তাকে ফোন করে করণীয় জানতে চান। আর তিনি তাদেরকে বলেন, ছাত্ররা যা বলছে, তাই যেন তারা করেন।

‘আমি বলেছি, ওরা যাই বলে তাই শোনেন। মনে করেন আপনার সামনে আমাদের নাতিপুতি বলছে। নিজের নাতির কথা শুনেন না? নাতি নাতনিদের কথা তো নানা নানি, দাদা দানিরা শুনে থাকেন, যেটা বলে, সেটা শুনবেন।’
‘প্রত্যেকে কিন্তু শুনেছে’- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় রমিজউদ্দিনের শিক্ষার্থীরা তুমুল হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

লাইভবার্তা/ জিএম / ১২ আগস্ট, ২০১৮

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY