গরুর মাংস ৫০০ টাকা কেজি

13

a

লাইভ বার্তাঃ

মাংস ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে দাম বাড়ছে সব ধরনের মাংসের। সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংসের দাম দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকা। বেড়েছে মাছের দামও। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে বেশির ভাগ সবজির দাম।

শুক্রবার রাজধানীর মুগদা, খিলগাঁও, রামপুরা, বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহে গরুর মাংসের ১০০ টাকা ও মুরগির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। কিছুটা বেড়েছে মাছের দামও। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সবজির দাম।

এদিকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ চার দফা দাবিতে সোমবার থেকে রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগলের মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি গরুর মাংস প্রতি কেজি ১০০ টাকা বেড়ে ৫০০ টাকা বিক্রি করছে, খাসির মাংস বিক্রি করছে ৭০০ টাকায়।




বেড়েছে ব্রয়লার মুরগিরও দাম। কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগি ২০-৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং কক মুরগি ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে আর দেশি মুরগি ৪০০-৪৫০ টাকায়।

শুক্রবার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজি গত সপ্তাহের দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রতি কেজি সাদা আলু ১৫-২০ ও লাল আলু ২০-২২ টাকা, বেগুন ৩৬-৪৫ টাকা, ফুলকপি আকারভেদে ২০-৩০ টাকা, বাধাকপি ২৫-৩৫ টাকা, শালগম ৩০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, শিম প্রকারভেদে ২৫-৪০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা, গাজর ২৫- ৩২ টাকা, মূলা ২০-৩০ টাকা, শশা ও খিরা ২৫-৩৫ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার পিচ ১৫-২০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, কচুরলতি ৬০-৭০ টাকা, মটরশুটি ৫০-৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ২৫-৩০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ টাকাদরে বিক্রি করছে। কাচামরিচ ৪০-৬০ টাকা

প্রতি আঁটি লাউ শাক ২৫ টাকা, লাল শাক ও সবুজ শাক ১০ টাকা, পালং শাক ১৫ টাকা, পুঁই শাক ১৫ টাকা ও ডাটা শাক ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ প্রকারভেদে কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২২-২৮ টাকা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

রাজধানীর খুচরা মাছবাজারে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে মাছের দাম। ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই ৩৬০-৪০০ টাকা, কাতলা ৪০০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০-২৫০, সিলভার কার্প ১৮০-২০০ টাকা, আইড় ৪৫০-৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬০০-১১০০ টাকা, পুঁটি ১৮০-২০০ টাকা, পোয়া ৪০০-৪৫০ টাকা, মলা ৩২০-৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-৮০০, দেশি মাগুর ৪০০-৭০০ টাকা, শোল মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০-১৬০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও গত সপ্তাহের দামে অপরিবর্তিত রয়েছে। ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৩০-৩২ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৫০ টাকা ও হাঁসের ডিম ৪০-৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর খোলাবাজারে লিটার প্রতি বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৪-১১০ টাকায়। বিক্রেতারা প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি করছে ৩৭-৩৮ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট ৫০-৫৫ টাকা, পারিজা ৪৫ টাকা,নাজির শাইল ৫৫-৭০ টাকা ও বিআর আটাশ
৪০-৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গুড়ান বাজারের এক ক্রেতা সোবহান মিয়া বলেন, অনেক বাজারে গরুর মাংস বিক্রি করছে না। এখানে পাইলাম তাই দুই কেজি কিনেছি। দাম রেখেছে ১০০০ টাকা। বাসায় মেহমান এসেছে তাই বেশি দামেই কিনতে হলো। কি আর করবো আমাদের দেশে এগুলো দেখার মত কেউ নেয়। বিক্রেতারা ইচ্ছে মত দাম নিচ্ছে। ঠকছে আমাদের মত সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে  মাংস ব্যবসায়ী সাত্তার বলেন, প্রতি কেজি ৫০০ টাকা পছন্দ হলে কিনবে না হলে কিনবে না কাউকে তো জোর করা হচ্ছে না। ধর্মঘটের কারণে ঢাকার মাংসের দোকান বন্ধ রয়েছে । তারপরও আমরা বিক্রি করছি।

তাহলে ধর্মঘট মানছেন না আপনারা এমন প্রশ্নের উত্তরে এড়িয়ে যান এ মাংস বিক্রেতা। মুরগির মাংসের বিক্রেতারা বলছেন, গরুর মাংস বিক্রি না হওয়ায় ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে দাম বেশি। তাই আমরা ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছি।

ঝ/১৯

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY