খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার সময়ক্ষেপন করছে : ফখরুল

19

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার সময়ক্ষেপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালেই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের প্রতি এই আহবান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসা ব্যবস্থা হলে যাবতীয় খরচ দল বহন করবে। পরিবার থেকে বলা হয়েছে তার চিকিৎসার সব ব্যয় পরিবার থেকে বহন করা হবে। এক্ষেত্রে বিলম্ব করার অর্থই হচ্ছে যে, দেশনেত্রীর জীবন একটা হুমকির সম্মুখীন হওয়া। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমইউ) চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়ার অনাগ্রহের পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালে বক্তব্যের নাকচ করে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, যিনি রোগী তার আস্থার ব্যাপার আছে। আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, জেলকোডের কোথাও বলা নেই যে, শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা করতে হবে। সেজন্য দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে দেশনেত্রী চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

দেশের বর্তমান অবস্থাকে ভয়াবহ দুঃসময় অভিহিত করে এ থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে সকল গণতান্ত্রিক দল ও শক্তির এক হওয়ার আহবান জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। সেই জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সকল মানুষকে এক করে এই ঐক্য গড়ে তুলে হবে। আমি বলতে চাই, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে, দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে আজকে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই। এই ঐক্য সৃষ্টি করে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের বুকের ওপর চেপে বসা দানবকে সরাতে হবে।

ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করে এদেশের আমরা অবশ্যই একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারবো ইনশাল্লাহ। যেখানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন করতে হবে, যে সংসদ আছে তা ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচনের সময়ে সেনা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

মাদক বিরোধী অভিযানের নামে দেশে বিচারবর্হিভুত হত্যার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

বিজয় নগরে হোটেল অরনেটে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশের আয়োজনে কারাবন্দি জোট নেত্রী অসুস্থ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় এই ইফতার মাহফিল হয়।

দলটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ইফতারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম বক্তব্য রাখেন।

ইফতারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, হায়দার আলী, ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাউদ্দিন, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, জাতীয় পাটির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, এনপিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, মুসলিম লীগের মহাসচিব এডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, খেলাফত মজলিশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিউদ্দিন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফারুক রহমান, মোসলেম উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম রাজু, মাহবুবুল ইসলাম খালেদ, আমিনুল ইসলাম, এসএম ই্উসুফ আলী, তানভীর হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইফতারে অংশ নেন।

ইফতার শুরুর আগে কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত হয়।

লাইভবার্তা/জিএম/১৪ জুন, ২০১৮

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY