ক্ষমতাসীনদের অনুগতদের দিয়েই বেগম জিয়ার মেডিকেল বোর্ড গঠন হয়েছে

16

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এমন চিকিৎসকদের দিয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিপুল জনপ্রিয়তায় ঈর্ষা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে অবৈধ সরকারের প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে জেলে অন্তরীণ করে রেখেছেন অন্যায়ভাবে, সেজন্য দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারের দেয়া মামলা জনগণ বিশ্ববাস করে না। সরকার তাই তাঁর অসুস্থতাকে হিংসা চরিতার্থের টার্গেট করেছে। অর্থাৎ বিনা চিকিৎসায় দেশনেত্রীকে শোচনীয় দূর্দশায় উপনীত করার লক্ষ্যে কৌশলী চক্রান্ত চালাচ্ছে। বেগম জিয়ার পছন্দ মতো চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসা নেয়ার অধিকার নেই। সরকারই ঠিক করে দিচ্ছে কারা হবেন বেগম জিয়ার চিকিৎসক। তাই সরকার পরিবারসহ জনগণের দাবিকে পাত্তা না দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এমন চিকিৎসকদের দিয়ে তাঁর মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীনদের অনুগত চিকিৎসকরা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রথমে শেখ হাসিনাকে রিপোর্ট করবে, তারপরে শেখ হাসিনা যা বলে দিবেন সেই অনুযায়ী চিকিৎসা চলবে’।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘বেগম জিয়াকে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ না দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ডাক্তারদের দিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন দুরভিসন্ধিমূলক। গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে এটি এক চরম তামাশা। এর মাধ্যমে বেগম জিয়ার মানবাধিকার কেড়ে নেয়া হলো। বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশ্ববাস দেয়ার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা রাখেননি। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে প্রকৃতিগতভাবেই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরিণামদর্শিতার মাশুল একদিন তাদের(সরকারকে) দিতেই হবে। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই বেগম জিয়াকে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সেজন্যই নিজ দলের অনুগ্রহভাজন ডাক্তারদের দিয়ে বেগম জিয়ার চিকিৎসা জনমনে সন্দেহ ও শংকার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক। যদি হিংসাশ্রয়ী মনের সাধ মেটানোর চক্রান্ত করে দেশনেত্রীর ক্ষতি করা হয় তাহলে সরকারের পরিণাম হবে ভয়াবহ। আমি আবারও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে’।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মতকে উপেক্ষা করে বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংসদীয় কমিটি, যা চলতি সংসদ অধিবেশনেই পাশের জন্য পেশ করা হতে পারে। এই আইন পাশ করা হলে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরুপে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই আইন করা হচ্ছে। শুধু গণমাধ্যমই নয়, সরকারবিরোধী যেকোন সমালোচনার পায়ে জিঞ্জির পরাতেই এই আইন। যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও উচ্চারণ করতে না পারে। এটি একটি ভয়ঙ্কর কালাকানুন।এই আইনে যেকোন মানুষকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুচ্ছ অজুহাতে গ্রেফতার করতে পারবে, গণমাধ্যম অফিসে যখন তখন সরকারী আইন প্রয়োকারী সংস্থা হানা দিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ তল্লাশি করতে পারবে, সিজ করতে পারবে, নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিতে পারবে, এমনকি গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে পারবে। এই আইনে কোন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না, অর্থাৎ সরকারের কোন দূর্নীতিই প্রকাশ করা যাবে না’।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি জুলুমের তীব্র কষাঘাতে সারাদেশ বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। গোটা দেশকে ভুতূড়ে বাড়িতে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে। একদিকে লাগামহীন গ্রেফতারের উন্মাদনা, অন্যদিকে গায়েবী মামলার জলোচ্ছাসে সারাদেশ প্লাবিত। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা গ্রাম থেকে শহরে ও শহর থেকে বন্দরে ছুটে বেড়াচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া, গ্রাম ও শহর নেতাশুণ্য, কর্মীশুণ্য। তৃণমূলের ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন কমিটিতে সভাপতি থেকে সর্বশেষ সদস্য পর্যন্ত সবার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সাধারণ সমর্থক’রাও এই হামলার ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। মূলত: ভোটারশূন্য করার জন্যই অবৈধ সরকার বিএনপির ওপর আগাম আক্রমণ শুরু করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে আন্দোলন বা নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্যই এই আগাম অভিযান’।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,মহিলা দলের সিনিয়র-যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লাইভবার্তা/ জিএম / ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY