কৃষকের ধান পোড়ানো অশুভ সংকেত : মোশাররফ

4

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্ষেতের ধান আগুনে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা দেশের জন্য খুবই অশুভ সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে এ শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবছর বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে এই শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি কারাগারে থাকায় তার পক্ষ থেকে এ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, কৃষকরা তাদের ধানের মূল্য পাচ্ছে না। এ কারণে তাদের পাকা ধান পুড়িয়ে ফেলছেন। এটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য খুবই অশুভ সংকেত। আর এটা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু সরকার এটা পাশ- কাটিয়ে যাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি।

তিনি বলেন, গুঞ্জন আছে, বাংলাদেশ থেকে যারা টাকা বিদেশে পাচার করে দিতে চাচ্ছেন, তাদের সুযোগ করে দেয়ার জন্য চাল আমদানির ঘটনা ঘটছে। ধান মজুত থাকার পরও কেন চাল আমদানি করা হচ্ছে? কারণ এখানে টাকা পাচারের ষড়যন্ত্র আছে। আর যারা এটা করছে, তারা বর্তমান সরকারের ব্যবসায়ী, খোঁজ নিয়ে দেখেন।

বিএনপি সংকটে- সরকারের মন্ত্রীদের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি সংকটে নয়। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার ইশারায় এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দল পরিচালনা করছে।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ নয়। মানুষের কোন শান্তি ও কথা বলার অধিকার নেই। দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার নাই। একটি দেশে যদি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার না থাকে তাহলে ধর্ম-কর্মের অধিকার কি থাকে? তাই আজকে ধর্ম-কর্মের অধিকারও নাই। কারণ আজকে বাংলাদেশকে ধর্মহীনতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রধানমন্ত্রীর কথিত একটি ফোনালাপের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি সংযত না হয় তাহলে তার মা সারাজীবন কারাগারে থাকবে। একথা বলার পরে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, কোনো আইনের কারণে নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বেগম জিয়া কারাগারে আছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান সরকার বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখেছে।

বিএনপির সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জন গোমেজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অমলেন্দু বিকাশ অপু প্রমুখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে কৌন্ডান্য ভিক্ষ, মৈত্রী বৌদ্দ বিহার, পঞাবংশ ভিক্ষু, চাকমা রাজারাজ বিহার, সুভাষ চন্দ্র চাকমা, প্রধান চন্দ্র চাকমাসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লাইভবার্তা/ জিএম / ১৭ মে এপ্রিল, ২০১৯

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY