কিছু ব্যক্তি চায় না খালেদা জিয়া মুক্তি পাক : অলি

7

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়েও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম।

তিনি বলেন, ২০ দলীয় ঐক্যজোট ভাঙার জন্য অনেক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই নির্বাচনের আগে থেকেই হয়েছিল। ইদানিং আমরা লক্ষ করছি কিছু ব্যক্তি চায় না খালেদা জিয়া মুক্তি পাক।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি ক্লাবে ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করে এলডিপি। বিএনপির নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপি বিভিন্ন প্রোগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে জামায়তের নেতাদের উপস্থিতি লক্ষা করা যাচ্ছে। আজকের ইফতারও জামায়াতের ২ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

অলি বলেন, ‘ অনেক সময় দেয়া যায়, দেয়াল যদি নিচু হলে ছাগল লাফ দিয়ে পার হয়ে যায়। পাশে মালিক দাড়ায় থাকে। অনেক সময় মালিকের চাইতে ছাগলের উচ্চাতা বেশি হয়। ছাগল হয়তো মনে করে, আমি মালিকের চাইতে বেশি উচু। রাজনীতিতেও এই ধরণের অনেক ছাগল আছে। তারা মনে করে খালেদা জিয়ার চাইতেও তারা বড় নেতা। তিনি যদি জেল থেকে বের হয়, তাদের অসুবিধা হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যথা সাধ্য চেষ্ঠা করবো। প্রেসক্লাব থেকে আমরা শুরু করেছি। আজকেও আমরা একই কথাগুলো বলছি। আগামী মাসেও বলবো। দেশের সব জায়গায় যবো। এতে আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবো না। দেশ ও দেশের মানুষকে বাচাঁনোর জন্য যুদ্ধ করেছি। দেশের মানুষকে হত্যা, ক্ষতি বা উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য নয়।’

বর্তমান সরকারের আমলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই বলে উল্লেখ করে অলি বলেন, তবে দেশে ৭৭ শতাংশ যৌন হয়রানী হচ্ছে। গ্রামের মানুষের অবস্থা খুব খারাপ। কৃষকরা ধানের দাম না পেয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। আগামী ২-৩ দিন মাসের মধ্যে দেশে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপাক ধস নামতে পারে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা ভালো নয় বলে দাবি করে ২০ দলীয় জোটের শরিক এই নেতা বলেন, বিদেশীদের দেখানোর জন্য কিছু মানুষকে ঘরে নিয়ে বন্ধ করে রেখে তাদের হাতে কয়েকটি বন্ধুক দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে গ্রেনেড পাড়িয়ে হত্যা করে বলা হয় আমরা সন্ত্রাসের প্রতি জিরো ট্রালারেন্স। মাসদ সেবীদের ঘরের মধ্যে আটকে রেখে হত্যা করা হচ্ছে। বহু নাটক আমরা দেখেছি।

অলি আরও বলেন, ২০০৫ সালে আমরা মনে করেছিলাম রাজনীতিতে ভুল হচ্ছে। সেই জন্য উপমহাদেশে একটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। তিনজন মন্ত্রীসহ ৩২ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিদ্রোহ করেছিলাম। সেটা বিএনপির বিরুদ্ধে ছিল না, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ছিল। আজকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি একশতভাগ খারাপ। আমরা ২০ দলীয় জোট কি ঘরে বসে থাকবো। একজন আরেক জনের সমালোচনা করবো। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো। ভোটের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করবো। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের ঐক্য গড়ে তুলবো।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে বন্দি আছেন। কিন্তু এ কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে আমাদের যেটা করার দরকার ছিল-সেটা আমরা করতে পারছি না। হয় আমরা সক্ষম নয় অথবা আমাদের করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে এক্ষেত্রে সরকার আমাদের জায়গা করে দেবে এমনটা ভাবাও ঠিক না। তিনি আরও বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দল। বেগম খালেদা জিয়া এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। তাই বিএনপি বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছে-এটিও ঠিক নয়। মনে রাখতে হবে-বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও এ দেশের জনগণকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না। অপেক্ষা শুধু সময় ও সুযোগের। এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক বলেন, অপেক্ষা করুন-সময়ও আসবে, সুযোগও আসবে। সেইদিন আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ। তবে সেই সময় ও সুযোগ এমনিতে চলে আসবে না, সেটা আমাদের তৈরি করতে হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগারে বন্দি আছেন। গোটা দেশও আজ কার্যত বন্দি। তাই বেগম জিয়া এবং বন্দি দেশটাকে মুক্ত করার জন্য সবাইকে একসাথে লড়াই করতে হবে। আসুন আমরা শপথ নিই যে- আমরা এই কাজ করতে পারব, আমাদের পারতে হবে।

এলডিপির ইফতারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম , এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহদাত হোসেন সেলিম, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনপিপি (একাংশ) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ডিএল সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল করিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

লাইভবার্তা/ জিএম / ১৭ মে এপ্রিল, ২০১৯

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY