এক দশক পর অপারেশন থিয়েটার চালু

42

a

লাইভ বার্তাঃ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১০ বছর আগে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এত দিন জনবল ও যন্ত্রপাতি কোনোটাই বাড়েনি। তবে দীর্ঘ এক দশক পর সম্প্রতি এই হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারটি (ওটি) চালু হয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায়। গত অক্টোবর মাস থেকে ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও শুরু হয়েছে হাসপাতালটিতে। তবে শল্য চিকিৎসক ও অবেদনবিদ না থাকায় নিয়মিত অস্ত্রোপচার হচ্ছে না।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা জানান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় হাসপাতালে স্থাপিত ওটিতে গত ২৯ অক্টোবর ২০ জন শিশুকে ছোট ধরনের (মাইনর সার্জারি) অস্ত্রোপচার করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট গোলাম হাবীবের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল শিশুদের এই সেবা দিয়েছে। এরপর ১২ নভেম্বর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সার্জন নজরুল ইসলাম ও মো. আরিফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে আরেকটি চিকিৎসক দল ২১ জন রোগীকে অস্ত্রোপচার করে। কিন্তু টেকনাফ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শল্য চিকিৎসক ও অবেদনবিদ (অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ) না থাকায় প্রতিদিন কিংবা নিয়মিত অস্ত্রোপচার সম্ভব হচ্ছে না।

টেকনাফ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর তিনতলাবিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ হলেও সেখানে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি পর্যাপ্ত সরঞ্জামও। হাসপাতালটি এখনো চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। ৫০ শয্যার লোকবলের কাঠামো অনুযায়ী এই হাসপাতালে গাইনি, শল্য, অবেদনবিদ, শিশু সার্জারি, হৃদ্রোগ, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন রোগ, শিশু এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু হাসপাতালে আছেন কেবল শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের ২৯টি পদের মধ্যে ১৪টি পদই শূন্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বলেন, রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় আধুনিক ওটি স্থাপন করা হলেও অবেদনবিদ ও শল্য চিকিৎসকের অভাবে নিয়মিত অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। রেডিওগ্রাফার অন্যত্রে বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে এক্স-রে যন্ত্রটিও অব্যবহৃত পড়ে আছে। তবে হাসপাতালে বাইরের চিকিৎসকেরা এসে মাঝে মাঝে অস্ত্রোপচার করছেন। এতে উপজেলাবাসী কিছুটা হলেও সেবা পাচ্ছে। প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিলে ওটি পুরোপুরি চালু করা যাবে।

উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী গ্রামের গৃহবধূ ঝর্না আক্তার (৩৫) হাসপাতালে আসেন হারনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে। হাসপাতালে বিনা খরচায় তাঁর সন্তানের অস্ত্রোপচার হয়েছে। সন্তান সুস্থ হওয়ায় তিনি খুব খুশি বলে জানালেন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকল্প কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান মণ্ডল বলেন, শয্যা বাড়ানোর এক দশক পর টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় অপারেশন থিয়েটারটি চালু হয়েছে। এটা টেকনাফবাসীর জন্য এক বিরাট পাওয়া। তবে চিকিৎসক না থাকায় নিয়মিত অস্ত্রোপচার সম্ভব হচ্ছে না। এখন কক্সবাজার শহর থেকে চিকিৎসক এসে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ আবদুল্লাহ মনির বলেন, উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা টেকনাফ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় অনেকে কক্সবাজার শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ জন্য হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত পদায়ন করাতে হবে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন পু চ নু বলেন, টেকনাফ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ওটি চালু করার কাজে এগিয়ে এসেছে। এভাবে সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে জনগণ উপকৃত হবে। হাসপাতালে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে।

ঝ/০৩

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY