একুশ অধিকারজনিত সংগ্রাম ও মর্যাদার প্রতীক : গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

44

লাইভ বার্তা ডেস্কঃ
News 17-02-2017 (1)ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য রক্তদান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল বলে অভিমত প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ১৯৪৮ সালে এ দেশের ছাত্র সমাজ মহান ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে। ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে ছাত্রদের জীবনদানের মধ্য দিয়ে এ দেশের ছাত্র সমাজের গৌরবময় রক্তাক্ত ইতিহাস সৃষ্টি হয়। ‘৫২-এর ছাত্র আন্দোলন এদেশের বাঙালী জাতির মুক্তি সংগ্রামের আকাঙ্খাকে জাগ্রত করে।

শুক্রবার নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্র কেন্দ্র আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। ছাত্র কেন্দ্রের সমন্বয়কারী সোলায়মান সোহেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ইসা, আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ছাত্র কেন্দ্রের যুগ্ম সমন্বয়কারী স্বরজিৎ কুমার দ্বেব, সোহেল রানা, গোলাম মোস্তাকিন ভুইয়া, মেহেদী হাসান অনিক প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ভাষা আন্দোলন তো বটেই, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১১ দফা, ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮২-‘৯০ সময়কালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ছাত্র সমাজের রক্তস্নাত ১০ দফা ও ‘৯০-এ মহান গণঅভ্যুত্থানসহ এ পর্যন্ত সকল গণ-আন্দোলনে প্রায় সকল আন্দোলনে মূখ্য ভূমিকা রেখেছে এদেশের ছাত্র সমাজ। তিনি বলেন, ৬৫ বছর আগে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনের সূচনা, বুকের রক্ত ঢেলে জাতিকে রুখে দাঁড়াবার সাহসে উজ্জীবিত করেছিল যারা, সেই ভাষা শহীদদের স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালিত হবে। ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার মধ্যে সীমিত থাকেনি, ভাষাভিত্তিক চেতনায় জাতি ক্রমে ঐক্যবদ্ধ ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছে। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণ-শাসনের শিকল ছিঁড়ে মুক্তিকামী মানুষ একুশের চেতনার পথ ধরেই একাত্তরে রক্তাক্ত মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা।

News 17-02-2017 (2)বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, গৌরবোজ্জ্বল একুশে ফেব্রæয়ারী অনন্যতা বিষয়ে জাতির গর্ব আরো বেড়ে গেছে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রæয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর। বাঙালির ও বাংলাদেশের একুশ এখন সারা বিশ্বে প্রধান ও অপ্রধান মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার ভাষার মানুষের জন্য মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপনের দিন। একুশ এখন সারা বিশ্বে ভাষা ও অধিকারজনিত সংগ্রাম ও মর্যাদার প্রতীক।

সভাপতির বক্তব্যে সোলায়মান সোহেল বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিবছর জাতীয়ভাবে একুশে উদযাপন করা হলেও সরকার একুশের শিক্ষা ও চেতনাকে জাতির জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগই নিতে পারে নি। একুশের শিক্ষা ও চেতনাকে জাতির জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার হাতিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন তথা বিজ্ঞানভিত্তিক ও গণমুখীকরণ কেন করতে পারে নি?

(লাইভবার্তা২৪ডটকম /জিএম/জানুয়ারী ১৭, ফেব্রুয়ারী, ২০১৭)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY