একটা অগ্রিম নির্বাচন হবে কি ?

854

হাসান বাবু/লাইভঃ

252708_1

নির্বাচন নির্বাচন নিয়ে চিৎকার আর আগের মতো নেই। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় নির্বাচন সে-ই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী। সংবিধান মোতাবেক এই নির্বাচনে বিজয়ী দলের সরকার পরিচালনার মেয়াদ ৫ বছর থাকলেও বিতর্ক তো আছেই। দেশের অন্যতম বড় দল, জনপ্রিয় দল বিএনপিই যে অংশ নেয় নাই!  বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশ নিয়েছিল না। এমন নিবন্ধিত প্রায় আরো মাঝারি ক্ষুদ্র দলও না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃত্ব হয়তো ভেবেছিল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হয়তো এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আর যাই হোক সরকারে টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলে থাকেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আসলে সে সময় ফাইনাল না খেলে সেমি ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে সিরিয়াস থাকাতেই যা হবার হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিতে চলছে তো সবকিছুই। প্রায় তিন বছর হতে যাচ্ছে এই সরকারের মেয়াদ কিন্তু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে পারার দক্ষতা কেও কি দেখাতে পারছে? সেমিফাইনাল খেলার বিষয়েও যাওয়া দরকার। টানা ৯২ দিন অবরোধ হরতালের পর যখন নির্বাচনে জিতে শেখ হাসিনা তাঁর বাড়ির লনে বললেন, যা ভোট পড়েছে আমি সন্তুষ্ট- ঠিক তখন বিএনপি সহ তাঁদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনটা কেন গতিময়তা পেল না? এই যেমন সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচনের পরেও হিলারী ক্লিনটনের অনুসারীদের একটা তীব্র গতির আন্দোলন কিন্তু চলছে। ক্ষীন আশার স্বপ্নও দেখছে তাঁরা। ঠিক একইভাবে ৫ জানুয়ারী নির্বাচন ও ১২ জানুয়ারী সরকার গঠনের ঐ সময়টায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আগুন জ্বালাও পোড়াও নয়, রাস্তায় লোক নেমে এলে ইতিহাস অন্যরকমের হলেও হতে পারতো বলে মত রাজনৈতিক সচেতনশ্রেনীর।

এদিকে দেশের রাজনৈতিক বাতাসে খবর আছে, হতে পারে একটি অগ্রিম জাতীয় নির্বাচন। সেটি ২০১৭ সালের দিকেই। কিন্তু কেনই বা হবে? দেশে এমন চাওয়ায় সিক্ত হতে পারা রাজনৈতিক সংগঠনই বা কোথায় ? উপরন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন ঘরে বিএনপির অতি উৎসাহী কর্ম, সমর্থন দলটির জাতীয়তাবাদকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কিনা তা কেও খতিয়ে না দেখলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অংশ হিসাবে এই নির্বাচনের ফলাফলকে তাঁদের অনুকুলে নিয়ে যেতে না পারার বিষণ্ণতা আছে, আছে হতাশা। তবে সব কিছুকে তুচ্ছ করে শুক্রবার একটি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন বিএনপি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর অভিজাত একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে তিনি নির্বাচন কমিশন গঠন কি ভাবে করা যেতে পারে তার একটি রূপরেখা দিবেন। তাহলে ধরেই নেয়া হচ্ছে বিএনপি মনে করছে, আগামী বছর একটা অগ্রিম নির্বাচন সরকার দল করে ফেলতে পারে। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়ার ব্যাপারে সিরিয়াস বলেই হয়তো এই সংবাদ সম্মেলন !

অন্যদিকে  অপর একটি সূত্র হতে জানা যায়, বাংলাদেশের নির্বাচন ও শাসন ব্যবস্থায় একসময় পরাক্রমশালী রাষ্ট্রে সমুহের প্রত্যক্ষ ভুমিকা থাকলেও সবকিছু আর আগের মতো করে হচ্ছে না। এর জন্য আওয়ামী লীগের সভানেত্রী  শেখ হাসিনার  নেতৃত্বকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে অনেকে। অন্যদিকে পিছিয়ে পড়া বেগম খালেদা জিয়া নিজের অবস্থান সমুন্নত করতে চাইছেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবী করে। যাতে করে বিএনপি আবারো রাজনীতির সড়কে ইউটার্ন  করতে পারে। কিন্তু সেই নির্বাচনটা সহসায় হবে কি !

 হা/লা/১৭০০

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY