উচ্চ আদালতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে : ফখরুল

15

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিচার ব্যবস্থার ওপর তারা (সরকার) চড়াও হয়েছে। মানুষের শেষ ভরসার স্থল উচ্চ আদালতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে আমরা সেটাই দেখতে পাচ্ছি।’

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন।

উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর পর আগামী রোববার পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ স্থগিত করায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আজকে বেগম খালেদা জিয়ার হাইকোর্টে জামিন দেওয়ার রায় আপিল বিভাগ কর্তৃক স্থগিত করে সকলকে বিস্মিত করেছে। সারা দেশের মানুষ উচ্চ আদালত থেকে যা প্রত্যাশা করে নাই সেটাই আজকে ঘটেছে। মামলা শোনানীর সময় আপিলকারী দুদকের আইনজীবী বক্তব্য উপস্থাপন করার পর বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য না শুনে হাইকোর্টে দেওয়া জামিনের আদেশ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।‘

‘এত তাড়াহুড়া করে অপর পক্ষকে না শুনে এই ধরনের একটি রায় আমরা কেউ প্রত্যাশা করিনি। উপস্থিত আইনজীবীরা এই একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দুই পক্ষের কথা শুনে দেশের উচ্চ আদালত যে কোনো রায় দিতে পারেন। কিন্তু এক পক্ষের বক্তব্য শুনে এই ধরনের আদেশ দেওয়া মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়। এতে দেশের উচ্চ আদালতের ঐতিহ্য এবং ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমরা মনে করি’— বলেন মওদুদ।

তিনি বলেন, ‘আদালত বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। দেশে সুবিচার নিশ্চত করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। আমরা এই রায়ে ক্ষুব্ধ, দুঃখিত এবং আশাহত হয়েছি্।’

অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মামলা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই তাকে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে জামিন দেওয়ার পরও আজকে স্থগিত করা হলো। ভারাক্রান্ত মনে আমরা বলতে চাই, আদালতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে।’

‘আপনারা দেখছেন, দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে যিনি আছেন তিনি বলছেন এতিমের টাকা চুরি করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তার সভাসদ যারা ছিলেন তাদের একই কথা— এতিমের টাকা চুরি করা হয়েছে। আদালতে আমরা দেখিয়েছি, যে টাকা অরফানেজ ট্রাস্টে দেওয়া হয়েছিল তার একটি পয়সাও আত্মসাৎ করা হয়নি। বর্তমানে ওই খাতে ৬ কোটি টাকা আছে। তাহলে আত্মসাৎ করা হলো কোথায়?’— প্রশ্ন মাহবুবের।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে টাকা আত্মসাতের জন্য সাজা দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে আত্মসাতের সহযোগিতার অভিযোগে। সহযোগিতা উনি কীভাবে করলেন? ট্রাস্ট আইনে ট্রাস্ট চলছে। সেখানে কোনো টাকা আত্মসাৎ হলো না। তারপরও তাকে সাজা দেওয়া হলো।’

‘মোট কথা মামলা করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে জনবিচ্ছিন্ন করে তাকে কারাগারে রাখতে হবে। তাই একের পর এক মামলা দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় করা হয়েছে হুকুমের আসামি। এখন আমাদের মনে হচ্ছে, এই মামলাগুলোয় একের পর এক তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট করে দীর্ঘ দিন জেলে রাখবে। আর সরকার পক্ষ সরকারি খরচে নির্বাচনের প্রচারণা করবে। আমরা যারা বিএনপির নেতা-কর্মী আছি, তারা কোর্টের দ্বারে দ্বারে জামিন চাইব আর হাজিরা দেব’— বলেন খন্দকার মাহবুব।

উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহম্মদ আলী, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।

(লাইভবার্তা২৪ডটকম /জিএম/ মার্চ ১৪, ২০১৮)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY