অবজারভারের বিরুদ্ধে শামীম ওসমানের নোটিশ সংসদে গ্রহণ

27

a

লাইভ বার্তাঃ

ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্ণের অভিযোগ এনে ডেইলি অবজারভারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের দেওয়া নোটিশ গ্রহণ করেছে সংসদ। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নোটিশটি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন।

একই সঙ্গে শামীম ওসমান প্রথম আলো এবং বাংলাট্রিবিউনের বিরুদ্ধেও নোটিশ আনেন। তবে বিধি অনুযায়ী শর্ত পূরণ না হওয়ায় তা সংসদ গ্রহণ করেনি।



নোটিশটি গ্রহণ করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ব্যক্তি অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে ৩টি নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশ ৩টির মধ্যে প্রথমটি দ্য ডেইলি অবজারভার পত্রিকায় গত ২৩ জানুয়ারি প্রথম পৃষ্ঠায় চতুর্থ কলামে ‘Police await PM’s order to crack down on drug lords’ শিরোনামে অসত্য ভিত্তিহীন কাল্পনিক খবর প্রকাশ হয়েছে। এতে সংসদ সদস্য পারিবারিক সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও দেশ-বিদেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় তার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে বিশেষ অধিকার ক্ষুন্ন হওয়ার কথা তার নোটিশে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ২০১৪ সালের ১ জুন ‘আইনজীবীকে হত্যায় অনুতপ্ত র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা’ শিরোনামে যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে তাতে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে জড়িত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন নোটিশদাতা। তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেয় প্রতিপন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ করেছেন। তৃতীয়ত বাংলাট্রিবিউন অনলাইন পত্রিকায় ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর তার বাবাকে জড়িত করে রিপোর্ট করায় কার্যপ্রাণালী বিধির ১৬৪ বিধিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

স্পিকার বলেন, তার তিনটি নোটিশের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে স্পিকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন। নোটিশ তিনটির বিষয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়েছে। তার তিনটি নোটিশের মধ্যে দ্বিতীয় এবং তৃতীয়টি বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত বিধি ১৬৫(২) অনুযায়ী বিশেষ অধিকার প্রশ্ন উত্থাপনের শর্তাবলী পূরণ হয়নি, কেননা ১৬৫ (১) বিধিতে বলা হয়েছে কোনো সদস্য এক বৈঠকে অনুরূপ একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন না। আবার ১৬৫(২) বিধিতে বলা হয়েছে উত্থাপনীয় ‘প্রশ্নটি সম্প্রতি সংঘটিত কোন সুনির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তা প্রথম সুযোগেই উত্থাপন করতে হবে। তার দ্বিতীয় এবং তৃতীয়  নোটিশটি ১৬৫(২) বিধিতে থাকায় তা গ্রহণ করা সম্ভব হলো না। প্রথম নোটিশটি কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৯ বিধি অনুযায়ী বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটিতে পাঠানো হলো।

এরপর শামীম ওসমান বলেন, আপনি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আমি মেনে নিয়েছি। তবে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এই পত্রিকা দুটি দেশে বিভিন্ন সময় সরকার পরিবর্তনে বিভিন্ন ভূমিকা রেখেছে। আপনি (স্পিকার) বলেছেন, যেই সময় ঘটনা সংগঠিত হবে সেই সময় উত্থাপন করতে হবে। আমি একমত। কিন্তু যখন কোন বিষয় আদালতে বিচারাধীন থাকে সেই বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে না। যেহেতু আমরা আইন প্রণেতা সেই হিসেবে সেই সুযোগ আমার কাছে ছিল না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সেজন্যই ৩৮ মাস অপেক্ষা করেছি। তারা বিভিন্ন ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। আমি তাদের অনেক নোটিশ দিয়েছি একটিও গ্রহণ করেনি। আমি এও বলেছিলাম আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তার তথ্য-প্রমাণ আমার সংসদের অভিভাবক স্পিকারকে দেন। ওরা তাও দেয়নি।

তিনি বলেন, আমি প্রায় ৩৮ মাস ধরে নিগৃহীত হলাম। পদ্মা সেতুর ব্যাপারে মন্ত্রী এবং সচিব একইভাবে নিগৃহীত হলেন। এমনকি ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো ১/১১-এর সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুর্নীতিবাজ বানানোর চেষ্টা করেছে। তাহলে কি তারা কোথাও জাবাব দেবে না?

ঝ/২০

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY